spot_img
spot_img

ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে গাজ্জার মতো ইরানকেও ধ্বংস করে দিতো: পেজেশকিয়ান

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তিনি বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইসরাইল ও আমেরিকা গাজ্জার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে তেহরান কোনো অবস্থাতেই আলোচনা করবে না।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই তার এই মন্তব্য সামনে এলো।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তান সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের আত্মরক্ষার জন্য যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সেগুলো না থাকলে ইসরাইল ও আমেরিকা গাজ্জার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। তারা বৃদ্ধ বা শিশু, কাউকেই রেহাই দিত না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই, কারও সঙ্গে, কখনোই আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করব না।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন, আমেরিকা, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মধ্যে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে কোনো কথাই উল্লেখ নেই।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এরপর শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানও পাল্টা উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলো এবং ইসরাইলের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করে।

মূলত ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দুর্বল আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতি পূরণ করতে ইরান প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলে। এরপর থেকে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও নির্ভুলতা আরও বেড়েছে।

ইরান থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এসব থাকে, তাহলে তাদের, ইরানের, কিছুটা সক্ষমতা থাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়তো খুব একটা ন্যায্য নয়।’

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ