আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ইরানের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন তিনি। এরদোগান তার সেই অনুরোধ মেনেও নিয়েছিলেন।
বুধবার (২৪ জুন) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, এরদোগান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার অন্যতম সম্ভাব্য নেতা ছিলেন। কারণ তিনি ইসরাইলের বড় কোনো সমর্থক নন।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে দূরে থাকতে বলেছিলাম। তিনি দূরেই ছিলেন। এরদোগান একজন মহান নেতা, একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যক্তি। আমি তার কাছে যা চেয়েছি, তিনি তাই করেছেন।’
টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এরদোগান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন।
চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরুজালেমকে ‘মুক্ত’ করার আহ্বান জানান।
এর কয়েক দিন পর এরদোগান দাবি করেন, ইসরাইলের ‘আগ্রাসন’ শুধু ফিলিস্তিন নয়, পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি।
তিনি আরও বলেন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
একসময় মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠতম মিত্রদের অন্যতম ছিল তুরস্ক। তবে এরদোগানের ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতি ঘটে।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া গাজ্জা যুদ্ধের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
তুরস্ককে এফ-৩৫ দেওয়ার ইঙ্গিত
আলোচনার সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আসন্ন ন্যাটো সম্মেলনের আগে তিনি তুরস্ককে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ও ডজনখানেক জেট ইঞ্জিন বিক্রির মতো বড় ধরনের সামরিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার তাই মনে হয়। আমি সম্ভবত এমন কিছু করতে যাচ্ছি, যা তাকে খুবই খুশি করবে।’
এফ-৩৫ বিক্রির জন্য কী শর্ত পূরণ করতে হবে, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বিষয়টি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দিকে ঠেলে দেন।
এরপর ভ্যান্স বলেন, ‘আমেরিকার আইন মেনে চলার জন্য কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রেসিডেন্ট আমাদের সেই কাজ করতে বলেছেন, যাতে তারা এফ-৩৫ পেতে পারে। বিষয়টি মূলত কংগ্রেস-সংশ্লিষ্ট।’
এরপর ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করে বলেন, বিষয়টির সমাধান হয়ে যাবে।
এফ-৩৫ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এটি আমেরিকা ও কয়েকটি ন্যাটো মিত্র দেশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল।
তবে ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় আমেরিকা।
আমেরিকার আইনে বলা হয়েছে, এস-৪০০ ব্যবস্থা পরিচালনা বা নিজেদের কাছে রাখলে তুরস্ক এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হতে পারবে না।
তবে গত ডিসেম্বরে তুরস্কে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেছিলেন, ট্রাম্প ও এরদোগানের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল











