spot_img
spot_img

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অংশ বাড়াতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য চায় তুরস্ক

বিশ্ব বাণিজ্যে ইসলামী দেশগুলোর অংশ বাড়াতে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী উৎপাদন অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ সহযোগিতা, লজিস্টিকস, সংযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংহতি জরুরি।

সোমবার (২৯ জুন) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের বৈঠকের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক নৈশভোজে তিনি এ কথা বলেন।

ইলমাজ বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য থেকে ইসলামী দেশগুলো যে অংশ পায়, তা আমাদের বাড়াতে হবে। এটি শুধু আলাদাভাবে আমাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে হবে না, বরং আমরা একসঙ্গে যা করব, তার মাধ্যমেও হবে।”

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদ, সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, অর্থায়ন সংকট, ডিজিটালাইজেশন ও সবুজ রূপান্তরসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ৫৭ সদস্যের ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যে ওআইসি দেশগুলোর অংশ মাত্র ১০ থেকে ১১ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে বড় ধরনের অপ্রয়োগিত সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “এই চিত্র বদলাতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরও বেশি উৎপাদন অংশীদারত্ব, বিনিয়োগে আরও বেশি সহযোগিতা, লজিস্টিকস, সংযোগব্যবস্থা ও সংহতি প্রয়োজন।”

ওআইসি দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্য ১১৮ বিলিয়ন ডলার

ইলমাজ বলেন, ওআইসি কাঠামোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে তুরস্ক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, ২০০২ সালে তুরস্কের অর্থনীতির আকার ছিল ২৩৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। গত বছর দেশটির পণ্য ও সেবা রপ্তানি ৩৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছর তা ৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যের পরিমাণ ১১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০০৩ সাল থেকে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলো তুরস্কে ২৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। একই সময়ে ওআইসি দেশগুলোতে তুরস্কের সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

ইলমাজ বলেন, বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।

তিনি ওআইসির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি বা কমসেকের কাজের দিকেও গুরুত্ব দেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সভাপতিত্বে পরিচালিত এই কমিটি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ইসলামী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় সহায়তা করে আসছে।

ইলমাজ জানান, কমসেকের আওতায় ১৫৫টি কারিগরি কর্মদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে ১১৯টি গবেষণা প্রতিবেদন। আর সহায়তা দেওয়া হয়েছে ২০৯টি প্রকল্পে।

তিনি বলেন, কমসেক আল-কুদস কর্মসূচির আওতায় ফিলিস্তিনে ৩৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চলতি বছর কমসেক সিরিয়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

ওআইসির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি

ইলমাজ বলেন, ইসলামী দেশগুলো এখনো ওআইসির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “আসলে এই ২৫ শতাংশও কম। আমাদের আরও অনেক বেশি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দরকার।”

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ওআইসি প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড সিস্টেম। তবে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিরোধের ন্যায্য ও স্বাধীন নিষ্পত্তির জন্য ওআইসি আরবিট্রেশন সেন্টারকে শক্তিশালী করার গুরুত্বও তুলে ধরেন ইলমাজ।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কম খরচের উৎপাদন মডেল থেকে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নিকটবর্তী ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইলমাজ বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আমাদের সহযোগিতা বাড়াতে হবে এবং এই পরিবেশকে আমাদের সুবিধায় পরিণত করতে হবে।”

তিনি জানান, তুরস্ক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে এবং ইস্তাম্বুল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারকে শক্তিশালী করতেও কাজ করছে। বিশেষ করে অংশীদারিত্বভিত্তিক ও ইসলামী অর্থায়ন উপকরণের মাধ্যমে এ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

টোব ও ফেডারেশন অব সৌদি চেম্বার্সের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্বাগত জানিয়েছেন ইলমাজ। তার মতে, তুরস্ক ও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ইতিবাচক।

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ