আফগানিস্তানের কৃষি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আতাউল্লাহ ওমারি। কৃষি আধুনিকায়নে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আফগানিস্তানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, প্রত্যয়িত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, সেচ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য আফগানিস্তানে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য ফোরামে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে আতাউল্লাহ ওমারি বলেন, আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই খাত দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
তিনি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা স্বাগত জানাই।’
একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যৌথ সমৃদ্ধির জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে আফগানিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নয়াদিল্লিতে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত দূতাবাসপ্রধান মুফতী নূর আহমদ নূর বলেন, ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন সভ্যতাগত সম্পর্ক, অভিন্ন ইতিহাস এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন গতি সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তিনি কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খনিজসম্পদ, অবকাঠামো ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।
মুফতী নূর আহমদ নূর ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাস অংশীদারত্ব সহজতর করা, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারতের শিল্পখাতের প্রতিনিধিরাও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরেন।
কনকুয়েরেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পিএইচডিসিসিআইয়ের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগবিষয়ক কমিটির কো-চেয়ার ডি. পি. গোয়েল বলেন, সুনির্দিষ্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা, স্যাটেলাইট ম্যাপিং, ড্রোনের মাধ্যমে ফসল পর্যবেক্ষণ এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
এসএন গ্রুপের উদ্ভাবন, রূপান্তর ও কৌশলবিষয়ক পরিচালক ক্যাপ্টেন বিশাল পারমার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়ন জোরদারে কৃষিপণ্যের উৎস ও সরবরাহপথ শনাক্ত করার ব্যবস্থা, ন্যানোপ্রযুক্তিনির্ভর পানিবিষয়ক সমাধান এবং নবায়নযোগ্য শক্তি সঞ্চয়ব্যবস্থাসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ










