spot_img

চাঁদা নয়, ‘খাস কালেকশনের’ নামে চলছে টাকা আদায়

নেত্রকোনার মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি খালে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে ‘খাস কালেকশন’-এর নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব শামুক তারা হাঁসের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন।

সম্প্রতি, এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালিদ মিয়া।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে অবস্থিত দরুন্দা খালে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী মহল ‘খাস কালেকশন’-এর নামে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে।

অভিযোগকারী ওয়ালিদ মিয়া জানান, হাওরাঞ্চলের খাল-বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। অথচ তা উপেক্ষা করে দরুন্দা খালে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

গত ৩ জুলাই হাওরাঞ্চল সফরে গিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর হাওরের খাল-বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখার কথা বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে এসব জলাশয় কোনো ধরনের ইজারা না দেওয়ার কথাও তারা জানান। এর পরও ‘খাস কালেকশনের’ নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিনিধি সৈয়দ আমিনূল হাসান (রুজেল) বলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নির্দেশে দরুন্দা খালে মাছ ধরার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জলাশয় উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়ায় তা মেনে খালটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। শামুক উত্তোলনের জন্য চাঁদা আদায়ের অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন।

মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে খালিয়াজুরী ইউএনও কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ