পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন, বিক্ষোভ ও সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশটিতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেছে। তবে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি।
পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকার ব্যবহারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা আল-জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জার্নালিজম পাকিস্তানও দেশটির ভেতর থেকে পরীক্ষা করে ওয়েবসাইটটি অচল পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কী কারণে ওয়েবসাইটটি অচল হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন নিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদনের কঠোর সমালোচনা করে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংবাদমাধ্যমটি মুয়াজ্জাফরাবাদের ‘বাছাই করা’ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।
এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, নির্বাচিত সময় ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ব্যবহার করে আল-জাজিরা আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির চেষ্টা করেছে।
আল-জাজিরার বিরুদ্ধে ‘ইয়েলো জার্নালিজম’ বা অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকর সাংবাদিকতার অভিযোগও এনেছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, এ ধরনের প্রতিবেদন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং বহিরাগত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।
আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন চলছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ২৭ জুলাই অনুষ্ঠেয় নির্বাচন তিন ধাপে ভাগ করা হয়। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের মধ্যে অঞ্চলটির ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অধিকার সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদ সংগ্রহে বাধা, ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সাংবাদিক রাজি তাহির ও মুহাম্মদ সাইফকে ১ আগস্ট ইসলামাবাদের একটি কার্যালয় থেকে পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তারা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকলে তা প্রকাশ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত এবং বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়ে থাকলে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিপিজে। একই দিন আটক কাশ্মীরি সাংবাদিক রাজা ইকরামকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সিপিজের ভাষ্য অনুযায়ী, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ৫ জুন থেকে আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও টেলিযোগাযোগে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। কাশ্মীর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাকিস্তানে আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশ সীমিত করার অভিযোগও পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।
তবে আল-জাজিরার ওয়েবসাইট ব্লকের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রকাশ করেনি। ফলে সংবাদমাধ্যমটির টিভি সম্প্রচার ও সামগ্রিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়; আপাতত দেশটির ভেতরে ইংরেজি ওয়েবসাইটে প্রবেশ সীমিত থাকার তথ্যই নিশ্চিত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা ও জার্নালিজম পাকিস্তান











