spot_img

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপরেখা তুলে ধরলেন সোনম ওয়াংচুক

ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ রূপরেখা দিয়েছেন দেশটির পরিবেশ ও শিক্ষা আন্দোলনের কর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি এই আন্দোলনকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। ওয়াংচুক বলেন, ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমাদের খুব বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। দেশে একটি বিপ্লব, একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব প্রয়োজন, যাতে আমরা সঠিক নেতৃত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।”

ওয়াংচুকের মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে। সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত না হলে পুরো দেশ ভুল পথে পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, ৫০ বছর আগে যেসব প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশ ভারতের পেছনে বা কাছাকাছি অবস্থানে ছিল, মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে তাদের অনেকেই এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ সময় তিনি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪৭ সালে ভারত উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

তবে এই আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন না ওয়াংচুক। তার দাবি, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন দলের সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা কণ্ঠ দমনে একই ধরনের আচরণ করেছে।

২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় দিল্লিতে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও দুর্নীতি ও অন্যায় দূর হয়নি। বরং ১২ বছর পর দুর্নীতি ও অন্যায় নতুন রূপে আরও বড় হয়ে সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা অপরাধমূলক মামলার প্রসঙ্গও তোলেন ওয়াংচুক। তার দাবি, সংসদের প্রায় অর্ধেক সদস্য বিভিন্ন অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ কীভাবে উন্নতি করবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনীতিতে এখনও সত্যের পথে থাকা সম্মানযোগ্য নেতা রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন ওয়াংচুক।

‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ সামনে এগিয়ে নিতে দেশবাসীর সহায়তাও চেয়েছেন তিনি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষের নাম প্রস্তাব করতে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াংচুক।

তিনি বলেন, দেশের সেরা চিন্তাশীল ও যোগ্য মানুষদের একত্র করে ভারতের কোথায় কী পরিবর্তন প্রয়োজন এবং দেশকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে চান। এজন্য বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার আগ্রহও জানিয়েছেন তিনি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ