জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ফ্যাসিবাদের তৈরি পুরোনো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ-মুগদা জোনের রুকন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিগত ছয় মাসে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যেভাবে দলীয়করণ করেছে, তা পতিত আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে যে দলীয়করণ করেছে, বিএনপি ছয় মাসে তার চেয়ে কম করেনি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা গ্রহণ করে ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে চলছে। রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক, আর্থিক, এমনকি মসজিদ-মাদরাসার মতো সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।”
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার সংসদে জনগণের দাবি মেনে না নিলে জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দল রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরালো করতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে জনগণের অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গণভোটে জনগণের দেওয়া গণরায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে রাজপথেই এর সমাধান হবে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “এজন্য যা যা করণীয়, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা-ই করবে। জনগণের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো জামায়াতে ইসলামী আপসহীন ভূমিকা রাখবে।”
এ জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও নৈরাজ্য চলছে। এসব দেখে বাংলাদেশে কোনো সরকার আছে কি না, তা বোঝার উপায় নেই। অথচ সরকার প্রচার করছে, ৬৩ শতাংশ জনগণ সরকারের কাজে সন্তুষ্ট।
দেশের ৬৩ শতাংশ জনগণ সরকারের কোন কাজের ওপর সন্তুষ্ট, তা প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও সবুজবাগ-মুগদা জোন পরিচালক ড. মোবারক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও সবুজবাগ-মুগদা জোন সহকারী পরিচালক মনির বিন আনোয়ারের পরিচালনায় রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে দারসুল কুরআন পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শামসুর রহমান।










