আমেরিকায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের এক ফেডারেল বিচারক।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটনের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের বিচারক জেনেট ভার্গাস এ দেওয়া রায়ে এ তথ্য জানানো হয়রছে
বিচারক ভার্গাসের মতে, আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার এ নীতি বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন। তাঁর রায়ে বলা হয়, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসার আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বিস্তৃত ক্ষমতা নেই।
ডেমোক্র্যাট সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মনোনীত বিচারক ভার্গাস অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার, কয়েকজন অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের আমেরিকার আনার চেষ্টা করা মার্কিন নাগরিকদের করা মামলায় এ রায় দেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতির আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া; দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল।
আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর তখন দাবি করেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন জনসেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেই ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।
তবে আদালত এ যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি শ্রেণির আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত এবং বৈচিত্র্য ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বিধিনিষেধের মতো সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভিবাসনব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, জাতীয়তা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে এ ধরনের বিধিনিষেধ বৈষম্য তৈরি করছে এবং অভিবাসীদের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করছে
শুক্রবারের রায়ের বিষয়ে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। ফলে প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে রায়ের পর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স










