spot_img

আল-আকসা নিয়ে ইসরাইলের পরিকল্পনা সফল হবে না: হামাস

পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরাইলের নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে মসজিদটির ইসলামী পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা সফল হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) আল-আকসা মসজিদে ১৯৬৯ সালের অগ্নিসংযোগের ৫৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর কয়েক দিন আগে ইসরাইলি পুলিশ আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার বই (সিদ্দুর) নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

হামাস বলেছে, ‘ইসরাইলি দখলদারদের পরিকল্পনা আল-আকসা মসজিদকে ইহুদিকরণ, এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, ইসলামী পরিচয় মুছে ফেলা, মসজিদটিকে সময়গত বা স্থানগতভাবে বিভক্ত করা কিংবা এর প্রাঙ্গণে তালমুদীয় আচারকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সফল হবে না।’

সংগঠনটি আরও বলেছে, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার বই নিয়ে প্রবেশ এবং সেখানে সংগঠিতভাবে প্রকাশ্যে প্রার্থনার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পবিত্র এই স্থানের পবিত্রতা ও ঐতিহাসিক ইসলামী পরিচয়ের বিরুদ্ধে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ।

ইসরাইলি বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইসরাইলি পুলিশ একদল ধর্মপ্রাণ ইহুদিকে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রার্থনার বই (সিদ্দুর) নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এর আগে জানুয়ারি থেকে সেখানে ছাপানো প্রার্থনার কাগজ (সিদ্দুর) নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। পরে বেন-গভির নিজেই এ পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনা করা কিংবা ধর্মীয় সামগ্রী নিয়ে প্রবেশে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করা হয়েছে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে বেন-গভিরের উপস্থিতিতে শত শত ইহুদি মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে প্রকাশ্যে প্রার্থনা করে।

হামাস বলেছে, ১৯৬৯ সালের অগ্নিসংযোগের ঘটনা জেরুজালেম, আল-আকসা মসজিদ এবং এর ইসলামী পরিচয়কে লক্ষ্যবস্তু করার চলমান প্রচেষ্টায় একটি বিপজ্জনক মাইলফলক ছিল।

সংগঠনটি আরও বলেছে, আল-আকসায় আজ যা ঘটছে, যার মধ্যে অনুপ্রবেশ, তালমুদীয় আচার এবং এর প্রাঙ্গণে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে, তা সেই অপরাধেরই ধারাবাহিকতা।

হামাস জেরুজালেম, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের প্রতি আল-আকসায় নিজেদের উপস্থিতি ও দৃঢ়তা আরও জোরদার করা এবং সেখানে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার দখলদারদের পরিকল্পনার মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে সংগঠনটি আরব ও মুসলিম দেশ, তাদের নেতা, জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি জেরুজালেম ও আল-আকসার প্রতি তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন, ইসরাইলি লঙ্ঘন বন্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা এবং শহরটির ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিষদ বলেছে, ১৯৬৯ সালে আল-আকসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড ছিল না; বরং এটি ছিল মসজিদ ও জেরুজালেমকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক প্রকল্পের প্রাথমিক অংশ।

পরিষদটি আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য ইসরাইলের অব্যাহত আহ্বানের বিষয়ে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, তথাকথিত ‘টেম্পল গ্রুপস’-এর নেতৃত্বাধীন উগ্রপন্থি ইহুদি গোষ্ঠীগুলো মসজিদে হানা চালাতে উসকানি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে এবং মসজিদ প্রাঙ্গণকে সময়গত ও স্থানগতভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।

পরিষদটি আরও বলেছে, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসলামী ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হামলা শহরটির ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও ফিলিস্তিনি পরিচয়কে লক্ষ্যবস্তু করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের কাছে বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ইহুদিরা এলাকাটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলে অভিহিত করে এবং দাবি করে, প্রাচীনকালে সেখানে দুটি ইহুদি উপাসনালয় ছিল।

১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলীয় নাগরিক ডেনিস মাইকেল রোহান আল-আকসা মসজিদের আল-কিবলি নামাজের হলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সালাহউদ্দিনের মিম্বর ও হলটির ছাদের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ঘটনার পর ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাবাতে প্রথম ইসলামী শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের ফলেই অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কনফারেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসি নামে পরিচিত।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ