জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, আফগানিস্তান বিষয়ে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নীতি অনুসরণ করছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) পাকিস্তানের পেশোয়ারে জমিয়তের এক কর্মী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, “২০ বছর ধরে আমেরিকা আফগানিস্তানে বোমা হামলা করেছে। ন্যাটোও ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে বোমা হামলা করেছে। এই জুলুম কেন করা হচ্ছিল, তা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি।
তিনি বলেন, “তারা বলেছিল, আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসেছি এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। কিন্তু আপনারা একটি দেশে বোমা হামলা করছেন। পাকিস্তানও সেই অবস্থানে থাকতে পারেনি। তারা তাদের নীতি পুরোপুরি পরিবর্তন করেছে, রাজনৈতিক ইউ-টার্ন নিয়েছে, আমেরিকার মিত্র হয়েছে এবং আমরা এখনো তার মিত্র। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বিনিময়ে আমরা ডলার ও অর্থ পাচ্ছি। তাহলে কি সন্ত্রাসবাদ শেষ হয়েছে? পুরো অঞ্চলজুড়ে তাকালে কোথাও কি নিরাপত্তা আছে? আমি শুধু নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছি না। নিরাপত্তাহীনতা এমন পর্যায়ে বেড়েছে যে সরকারের কর্তৃত্ব ক্ষয়ে যাচ্ছে। পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।”
এর আগে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইমারাতে ইসলামের রাষ্ট্রদূত সরদার আহমদ শাকিব প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে এসব মতপার্থক্য নিরসন করা উচিত।
তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলাম আফগানিস্তান সংঘাতের নীতি অনুসরণ করে না এবং অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ এনায়াতুল্লাহ আদেল বলেন, “এ অঞ্চলে, বিশেষ করে এই দুই দেশ ও জাতির মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ডোরান্ড লাইনের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ী, অভিবাসী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।”
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইদ্রিস মুহাম্মাদি জাজাই বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গত পাঁচ বছরের কোনো বিষয় নয়। প্রায় ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে এবং লিখিতভাবে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেছে এবং বলেছে যে, তারা আমেরিকার সঙ্গে আছে ও আমেরিকার স্বার্থে কাজ করে। বিশেষ করে আফগানিস্তানে আমেরিকা যেখানে অভিযান পরিচালনা করতে চায়, সেখানেই পাকিস্তান আমেরিকাকে সহযোগিতা করে এবং আমেরিকার জন্য অভিযান পরিচালনা করে।”
সর্বশেষ পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই সরকারের প্রতি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তারা যে বৈরী অবস্থান নিয়েছে, তা পরিত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সমর্থনে প্রমাণ উপস্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: তোলো নিউজ










