সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ। চুক্তিটি আরও বিস্তৃত হলে তা বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে সদস্য তিন দেশ বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “মক্কা চুক্তি তিনটি দেশের ভেতরে হয়েছে। আমরা এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান না করার বিষয়টি এখনো আসেনি। কারণ এটা নির্ভর করছে যারা এর সদস্য তাদের অভিপ্রায়ের ওপর।”
বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “মক্কা চুক্তির তিন দেশ যদি অভিপ্রায় প্রকাশ করে বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করতে তাহলে পরে আমরা নিশ্চয়ই সেটা ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করব।”
চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে এর গুরুত্ব কী হবে—তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখব। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে একটা কথা যে এই চুক্তি যদি বিস্তৃত হয় এবং এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা। এটা আমাদের মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এটা নিয়ে অন্যান্যদের উদ্বেগের কোনো অবকাশ নেই।”
গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিতে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, সদস্য তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চুক্তির যৌথ ঘোষণায় তিন দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, ইসলামি সংহতি, অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ ও দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে এই উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানও জানিয়েছেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং অঞ্চলটির শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার লক্ষ্য ধারণকারী অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণের জন্যও এর সুযোগ রয়েছে।











