spot_img
spot_imgspot_img

শরিয়তের উত্তরাধিকার বিধানে হস্তক্ষেপ হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের

ইসলামী শরিয়তে নির্ধারিত উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ বা কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে দেশের আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতা রাজপথে প্রতিবাদ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর বিভিন্ন বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, “৯২ ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা ইসলামের অকাট্য বিধান পরিবর্তন করে তৈরি করা কোনো আইন এ দেশের তৌহিদী জনতা কখনোই মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, ইসলামী উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েজ কোনো মানব রচিত আইন নয় যে, সময়ের অজুহাত কিংবা সমাজ পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে তা সংশোধন, পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করা যাবে। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনের সূরা নিসায় ওয়ারিশদের অংশ সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

তার ভাষায়, “যে বিধানে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেন, সেখানে তথাকথিত সমতা বা সমাজব্যবস্থার দোহাই দিয়ে তা পরিবর্তনের চিন্তা করা স্পষ্ট হারাম ও গর্হিত অপরাধ।”

জীবিত অবস্থায় ‘জীবনস্বত্ব সংরক্ষিত রেখে হেবা’ করার বিধান নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, এর মাধ্যমে অন্য কোনো উত্তরাধিকারীকে, যেমন আসাবাকে, বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হলে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও হাদিসের পরিপন্থী।

এ প্রসঙ্গে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, “আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন। অতএব, কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত বা মিরাস বঞ্চিত করার সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, কোনো বাহানা বা কৌশলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্ধারিত বণ্টননীতি অমান্য করা হলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বাতিল।

মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব আরও বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। সরকার সমাজের বিশৃঙ্খলা নিরসন এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য অধিকার দিতে চাইলে দেশের নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনসমাদৃত আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, ফকিহ, আলেম ও ইসলামী মিরাস আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

সরকার ও আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ইসলামী শরিয়তের অকাট্য আইন-কানুন স্পর্শ করার অধিকার কারও নেই। যদি সরকার দেশের আলেম-উলামা, মুফতি-ফকিহ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না।”

উল্লেখ্য, দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগস্বত্ব নিজের কাছে রেখে সন্তান, নাতি-নাতনি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ রেখে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ