ইরান ও পাকিস্তান থেকে আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো অব্যাহত থাকায় দেশ দুটির পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন সম্প্রতি ফিরে আসা কিছু আফগান।
তাদের অভিযোগ, আটকের সময় তাদের মারধর করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি কাউকে কাউকে পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইরান থেকে ফেরত আসা মুবরেজ বলেন, “ক্যাম্পটি খুবই খারাপ জায়গা। সেখানে পানি বা খাবার দেওয়া হয় না। অভিবাসীদের যথাযথ সেবাও দেওয়া হয় না। খাবার স্বাভাবিক দামের তিন গুণে বিক্রি করা হয়। মানুষকে দুর্ব্যবহার ও মারধর করা হয়। তারা অভিবাসীদের কাছ থেকে টাকাও নিয়ে নেয়। আপনার কাছে টাকা থাকলে তারা সব নিয়ে নেয়। আমার কাছে ২ হাজার ২০০ ডলার ছিল। তারা আমার কাছ থেকে ৫০০ ডলার নিয়ে গেছে এবং তা ফেরত দেয়নি।”
ইরান থেকে ফেরত আসা আবদুল করিম বলেন, “ইরানি কর্মকর্তারা আমাদের বলেছিলেন, আমাদের কাছে থাকা সব টাকা তাদের দিয়ে দিতে। তারা বলেছিল, আমাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সময় সেগুলো ফিরিয়ে দেবে। তারা আমাদের কাছ থেকে আফগানি, ডলার, লিরা ও তোমান নিয়েছে, কিন্তু সেগুলো আর ফেরত দেয়নি।”
সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা আরও কয়েকজন আফগান ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে। যাতে তাদের আফগানিস্তান ছাড়তে এবং আবারও অভিবাসনে যেতে বাধ্য হতে না হয়।
ইরান থেকে ফেরত আসা নাসির আহমদ বলেন, “আমরা ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতি আহ্বান জানাই, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করুন, যাতে আমরা তরুণরা কাজ করতে পারি এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য না হই।”
নিমরোজের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে ফিরে আসা আফগানদের আশ্রয়, নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
নিমরোজের শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ রিয়াজ বলেন, “আমরা ফিরে আসা আফগানদের আশ্রয়, নগদ সহায়তা ও প্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন সেবা দিয়েছি। পুল-ই-আবরিশাম সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ আফগান নিমরোজে ফিরে আসেন।”
প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ আফগান পুল-ই-আবরিশাম সীমান্ত দিয়ে নিমরোজে প্রবেশ করছেন। এতে দেশে ফিরে আসা আফগানদের জন্য সহায়তার প্রয়োজন আরও বাড়ছে।
সূত্র: টোলো নিউজে












