spot_img
spot_imgspot_img

গাজ্জায় ইসরাইলি হামলায় শহীদ ৭০ হাজারের বেশি, শিশু অন্তত ২০ হাজার: পার্লামেন্টে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজ্জায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলায় ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার শিশু বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে গাজ্জায় ইসরাইলি আগ্রাসনে ভয়াবহ প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

মিলিব্যান্ড বলেন, ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার শিশু। ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজ্জায় এরপর চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গাজ্জার প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের ভূখণ্ডটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে থাকতে হচ্ছে। জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রবেশে বারবার বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে এবং গাজ্জার ৬০ শতাংশের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রসঙ্গ তুলে মিলিব্যান্ড বলেন, বেসামরিক মানুষের জন্য খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এড়ানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব আইনের গুরুতর ও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গাজ্জায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে ব্রিটেন সমর্থন করে।

গণহত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক আদালতের। গাজ্জা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান প্রক্রিয়ার প্রতিও ব্রিটেনের সমর্থন রয়েছে।

গাজ্জার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব ছিল এমন মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যা দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষায়, দখলদার ইসরাইল সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণেই এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি গাজ্জা থেকে ফেরা চিকিৎসক ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মিলিব্যান্ড। তিনি জানান, সেখানে চিকিৎসার অপেক্ষায় শিশুদের মৃত্যু, খোলা পয়ঃনিষ্কাশনের পাশে আশ্রয়হীন মানুষের বসবাস এবং ভয়াবহ খাদ্যসংকটের বিবরণ তিনি শুনেছেন।

সূত্র : ব্রিটিশ সরকার

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ