spot_img
spot_imgspot_img

নাইন ইলেভেন পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের প্রাণ গেছে

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। আমেরিকার নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে ছিনতাই করা বিমান দিয়ে চালানো হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন। হামলার দায় দেওয়া হয় আল-কায়েদাকে।

কিন্তু ৯/১১ শুধু একটি দিনের ট্র্যাজেডি হয়ে থাকেনি। এর পর শুরু হওয়া আমেরিকার তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ পরবর্তী দুই দশকে আফগানিস্তান, ইরাকসহ মুসলিম বিশ্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধ, মৃত্যু, বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসের দীর্ঘ অধ্যায় তৈরি করে।

২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে হামলা চালায় আমেরিকা ও তার মিত্ররা। পরে ২০০৩ সালে ইরাকেও আগ্রাসন শুরু করে ওয়াশিংটন। এরপর পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান, ড্রোন হামলা ও ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের হিসাবে, ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৪৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ। শুধু যুদ্ধের প্রত্যক্ষ সহিংসতাতেই নিহত হয়েছেন ৯ লাখের বেশি মানুষ, যাদের কয়েক লাখ বেসামরিক নাগরিক।

৯/১১-এর ২৫ বছর পর আজও সেই যুদ্ধগুলোর ক্ষত বহন করছে মুসলিম বিশ্বের বহু দেশ। কোথাও ধ্বংস হয়েছে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, কোথাও প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে।

তাই ৯/১১ স্মরণের ইতিহাস শুধু নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে থেমে থাকে না। এর পর শুরু হওয়া যুদ্ধগুলোর মূল্য যারা জীবন, ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ দিয়ে দিয়েছে, তাদের ইতিহাসও ৯/১১-পরবর্তী বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ