ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। ইরান শুধু তার আন্তর্জাতিক অধিকারগুলোর প্রতি সম্মান চায়।
তিনি বলেন, ইরান চায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বজায় থাকুক। কিন্তু আমেরিকা এসব দেশকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী এক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, “আমেরিকা চায়, আমরা যারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তারা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হই।” ইরানের দাবি কেবল তার “আন্তর্জাতিক অধিকার” সম্মান করার বিষয়ে বলেও জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইউরোপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সংঘটিত অপরাধের কারণেই এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। তারা এ অঞ্চলে স্বাধীন দেশগুলোর অস্তিত্ব চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আগ্রাসী যুদ্ধের সময় আমেরিকা ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো ধরনের যৌক্তিকতা ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের নেতা, শিশু, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীরা শহীদ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আরও বেশি অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য বিষয় হলো, ভ্রাতৃপ্রতিম ও মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।”
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের সামনে আত্মরক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ ছিল না। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলাকারীদের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ওপর যে অন্যায় করা হয়েছে, তা সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে না। ইরান তার অধিকারকে সম্মান করা এবং “অন্যায় নিষেধাজ্ঞা” প্রত্যাহার চায় বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না।” ইরান তার জনগণের অধিকার রক্ষায় নিজেদের সব সক্ষমতা কাজে লাগাবে বলেও জোর দেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের কোনো “আঞ্চলিক জেন্ডারম” প্রয়োজন নেই। অঞ্চলটির প্রধান শক্তি ও দেশগুলোর মাধ্যমেই কেবল আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই মালয়েশিয়া এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টও ইরানের বিরুদ্ধে এ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে মালয়েশিয়া অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখে বলেও জানান তিনি।
আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের প্রতিরোধের প্রশংসা করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইরানের সরকার ও জনগণের দৃঢ়তা প্রশংসনীয়। অন্য কোনো দেশ হলে হয়তো তিন দিনেরও কম সময়ে পরাজিত হয়ে যেত। কিন্তু ইরান দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষা করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকেও স্বাগত জানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিষয়, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, তা মালয়েশিয়া পর্যালোচনা করবে।
সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি












