spot_img
spot_img

ইরানের অধিকার রক্ষায় সহযোগিতার আশ্বাস চীনের

ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দেশটির সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এ কথা বলেন।

ওয়াং ই বলেন, চীন ইরানের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তিনি ইরান ও আমেরিকাকে যৌক্তিক ও সংযত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

ওয়াং ই বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা যেন ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত আরও ছড়িয়ে না পড়ে, তা চায় না চীন। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যে ঐকমত্য হয়েছে, তার ভিত্তিতে ইরান ও আমেরিকার আলোচনার প্রক্রিয়া পুনরায় গড়ে তোলা উচিত। এ জন্য ইরান ও আমেরিকাকে আগের সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এটি সংস্কার ও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, ন্যায় ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত চীন। ইরানের বিষয়ে চীনের নীতিও ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল রয়েছে।

বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। আমেরিকার আগ্রাসী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান আঞ্চলিক আলোচনা শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক পথেও সমাধানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাঘচি বলেন, তারা এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে তারা অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল বেইজিং, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের কাছে জর্ডানে আমেরিকান সেনাদের অবস্থান করা একটি সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং চীন সরকার সরাসরি এতে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়নি।

এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি লিখে ইরানের কাছে অস্ত্র সরবরাহ না করার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জবাবে শি জানিয়েছিলেন, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে না।

ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার চীন। একই সঙ্গে ইরানের অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা চীন। রয়টার্সও চীনকে ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সূত্র : রয়টার্স, আল-জাজিরা, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ