আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি ইসরাইলের অধীন হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, ইসরাইল আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক নয়। তাই মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারিত হতে হবে আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরা আরবির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘অল-ইন পডকাস্ট’-এর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমেরিকা ও ইসরাইলের সম্পর্ক এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন ভ্যান্স।
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসরাইলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইসরাইলি সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমেরিকাকে একমত হতে হবে।
ভ্যান্সের দাবি, গত ৪০ বছরের যেকোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টের তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান থেকে সরে আসার বেশি প্রস্তুতি দেখিয়েছেন। বিশেষ করে আমেরিকার জনগণের স্বার্থ ও ইসরাইলি সরকারের স্বার্থের মধ্যে পার্থক্য দেখা দিলে ট্রাম্প নিজ দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর উদাহরণ দেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমেরিকার ইউরোপবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ন্যাটোর অধীন হয়ে যাবে। একইভাবে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতিও ইসরাইলের অধীন হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, যেসব ক্ষেত্রে স্বার্থের মিল থাকবে, সেখানে আমেরিকা ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। আর মতপার্থক্য দেখা দিলে ওয়াশিংটন তা প্রকাশ করবে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
ইরান প্রসঙ্গেও আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, কূটনীতি ও আলোচনার বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে ইসরাইলে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো পদক্ষেপ নিলে তা শুধু ইসরাইলকে রক্ষার জন্য নয়, আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার জন্যও নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভ্যান্সের বক্তব্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থের পার্থক্য তুলে ধরা হলেও দুই দেশের সহযোগিতা বন্ধ কিংবা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সূত্র : আল জাজিরা











