spot_img
spot_img

ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে স্থগিত মিসরীয় শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় ফেরাল কিংস কলেজ

গাজ্জার পক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে প্রায় ১৮ মাস পড়াশোনা থেকে স্থগিত থাকা ২২ বছর বয়সী মিসরীয় শিক্ষার্থী উসামা গানেমকে পুনরায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংস কলেজ লন্ডন। চলতি বছরের শরৎকালীন সেমিস্টারে তাকে আবার পড়াশোনায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উসামার পড়াশোনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছিল। একই সঙ্গে তার ব্রিটিশ ভিসার স্পনসরশিপ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে তার বিরুদ্ধে ওঠা কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পর এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনিদের সমর্থন এবং গাজ্জায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আগস্টের শেষ দিকে গানেমকে পাঠানো এক ই-মেইলে বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তার পড়াশোনা স্থগিতের সিদ্ধান্তের শর্তগুলো পূরণ হয়েছে। তিনি স্থগিতাদেশ বা ক্যাম্পাস থেকে নিষেধাজ্ঞার শর্ত ভঙ্গ করে নতুন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হননি। ফলে তার পড়াশোনা স্থগিত রাখা বা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার আর কোনো কারণ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬/২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পুনরায় নিবন্ধনের জন্য গানেমকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। একই সঙ্গে তাকে কিংস কলেজ লন্ডনের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

১ সেপ্টেম্বর পাঠানো পৃথক একটি স্মারকে বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করেছে, গানেমের ব্রিটিশ ভিসার স্পনসরশিপ পুনরায় সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর ফলে তিনি ব্রিটেন থেকে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন। তবে ভিসা স্পনসরশিপের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, ব্রিটেনের ভিসা ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিষয় বলে জানিয়েছে কিংস কলেজ।

তবে পুনরায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আগের বিক্ষোভগুলোতে গানেমের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছিল, সেগুলো থেকে তারা সরে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পর্যালোচনা কমিটি তার পড়াশোনা স্থগিত করার সময় যে কারণগুলোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বহাল রেখেছে। তবে স্থগিতাদেশের জন্য নির্ধারিত শর্তগুলো গানেম পূরণ করায় পুনরায় ভর্তি করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছে কমিটি।

অন্যদিকে, গানেম তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিষয়টি পর্যালোচনার ফলাফল একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির’ তৈরি করেছে।

তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা এবং অস্ত্র খাত ও গাজ্জার যুদ্ধে জড়িত বলে তিনি মনে করেন এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানানো অব্যাহত রাখবেন।

গানেমের ঘটনা নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তারা ব্রিটিশ ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এসব ব্যবস্থার কিছু ক্ষেত্রে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি প্রভাব পড়ছে।

সূত্র : সাফা নিউজ এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ