spot_img
spot_img

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসনসহ ১০ দফা প্রস্তাব জমিয়তের

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন, কওমি সনদের স্বীকৃতি অনুযায়ী চাকরিতে সুযোগ সৃষ্টি এবং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারসহ ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শুরা অধিবেশন-২০২৬-এ এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার পরিচালনায় এই শুরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশনে উপস্থাপিত প্রস্তাবাবলিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদ ও সংসদের বাইরে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হলেও জনজীবনে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও দ্রব্যমূল্যে চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

প্রস্তাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহলের দাপট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল, ব্যবসা, সেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের দাবি জানানো হয়। নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সারা দেশে গায়ের জোরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী ও পক্ষপাতিত্বের নানা অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনা দূর করার জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

কওমি সনদের স্বীকৃতির বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়, কওমি দাওরায়ে হাদিস তথা মাস্টার্স সমমানের সনদধারী আলেমদের সরকারি প্রাথমিক ও দাখিল স্তরের কারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কামিলস্তর পর্যন্ত আলিয়া মাদরাসা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সেক্টরে সম্মানজনক পদে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া সরকারি তহবিল থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তালিকাভুক্তির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইনসাফভিত্তিক ভাতা বণ্টনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও মুসলিম জাতিসত্তা-সংস্কৃতি ধ্বংসের জন্য ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন রোধে সরকারকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্যোগের নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের পবিত্রতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুসলিমনিন্দাকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ