আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মাদ ইসহাক দার বলেছেন, তার দেশ আফগানিস্তানের অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চায়। পাকিস্তান নিজেকে আফগানিস্তানের ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ মনে করে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ইসলামাবাদে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন ইউনামা জানিয়েছে, কুনার ও হেলমান্দে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন।
ব্রিফিংয়ে ইসহাক দার পাকিস্তানের আগের দাবির পুনরাবৃত্তি করে আফগানিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান, দেশটি যেন অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি।
ইসহাক দার বলেন, “এর বিনিময়ে পাকিস্তান কী প্রত্যাশা করে? আমরা তাদের কী বলেছি? আমরা বলেছি, তারা যেন কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আমরা এটি কোনোভাবেই সহ্য করব না।”
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসহাক দারের এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড বিশ্বের কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া তাদের নীতি নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়া আহমদ তাকাল বলেন, “ইমারাতে ইসলামিয়ার নীতি হলো, পাকিস্তানসহ বিশ্বের কোনো দেশের বিরুদ্ধে আফগান ভূখণ্ড কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। তাই আমরা এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করছি। এটি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনে আফগানিস্তান সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা তৈরির চেষ্টা।”
এদিকে আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার মিশনগুলোর সমন্বয় পরিষদ এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পরিষদটি এসব হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বেসামরিক নাগরিকদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং আরও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিষদটি।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : টোলো নিউজ











