spot_img
spot_img

ইরানের হুমকির কারণেই ব্রিটেন থেকে বোমারু বিমান সরানো হয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হুমকির কারণে ব্রিটেনের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হুমকি ছিল। তাই সেখানে মার্কিন বোমারু বিমান রেখে শত্রুকে সুযোগ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এ কারণে বিমানগুলো আমেরিকার ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা ধারণা পেয়েছিলাম যে সেখানে হুমকি থাকতে পারে। তাহলে কেন আমি তাদের সেখানে রেখে দেব? এগুলো সরিয়ে নিতে খুব বেশি খরচ হয় না। তাই আমরা হুমকির কারণে এগুলো সরিয়ে নিয়েছি। এতে হুমকিটাও কিছুটা কমে যায়। যারা হুমকি দিয়েছে তাদের আমরা চিনি।

হুমকিটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’

এর আগে একই দিন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়ে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

তবে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ইরান-সংশ্লিষ্ট কথিত ষড়যন্ত্রের সরাসরি কোনো যোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, পেন্টাগন নিয়মিতভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সম্পদ বিভিন্ন স্থানে পুনর্বিন্যাস করে।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান আমেরিকার নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে রোববার (৪ অক্টোবর) পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন বোমারু বিমান বহর যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোনো স্থানে নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিস্ফোরক আইনে অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে আটক করা হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে যানবাহনগুলোতে কিছু পরিমাণ পেট্রোল পাওয়া যায়। পরে পাঁচজনকেই জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর চার দিন পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে একজন ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও পরে জামিনে মুক্তি পান। ঘটনাটির সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্রিটেন ও আমেরিকার পক্ষ থেকে সন্দেহের কথা বলা হলেও ইরান এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ইউরোপে মার্কিন ভারী বোমারু বিমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার হামলায়ও ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর আগে ফেয়ারফোর্ডকে ইরানে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছিল।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ