বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রণীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কর্মসূচি আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং শক্তিশালী অংশীদারত্বের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং অভিন্ন অগ্রাধিকার ও জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখায় জাতিসংঘ কান্ট্রি টিমের নেতৃত্ব দেওয়া ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের ভূয়সী প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি সম্প্রতি সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রণীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো ২০২৬-২০৩১-এর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই এই সংকট সমাধানের একমাত্র স্থায়ী পথ।
ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে জাতিসংঘের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম প্রস্তুত রয়েছে।











