দেশের চলমান পরিস্থিতিতে উলামা-মাশায়েখদের করণীয় নির্ধারণ, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান এবং নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ‘ন্যাশনাল ওলামা সামিট’।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শতাধিক আলেমসহ সহস্রাধিক উলামা-মাশায়েখ অংশ নেন।
সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী রেজাউল করীম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের প্রতিটি পটপরিবর্তনে উলামায়ে কেরাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে তাদের সম্পৃক্ত করা হয় না।
তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো, প্রতিটি পটপরিবর্তনে উলামায়ে কেরাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করা হয় না। ফলে যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ জীবন ও রক্ত উৎসর্গ করে পটপরিবর্তন ঘটায়, তা আর পূরণ হয় না।”
মুফতী রেজাউল করীম বলেন, “উলামাদের রক্ত-ঘামে অর্জিত পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে উলামাদের উপেক্ষা করার পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি। তাই সরকারকে বলব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করুন।”
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও হামে শত শত মানুষের মৃত্যু হলেও সরকারের মধ্যে প্রয়োজনীয় তৎপরতা নেই। জনদুর্ভোগ লাঘবেও সরকারের উদাসীনতা লক্ষণীয়।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একের পর এক দাম বাড়িয়ে সব সংকট মানুষের ওপর চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার করে বলি, দাম বাড়িয়ে সংকট সমাধান না করে সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করুন।”
সামিট শেষে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদকে সভাপতি, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনকে সিনিয়র সহসভাপতি, মুফতী রেজাউল করীম আবরারকে সাধারণ সম্পাদক এবং মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফীকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, আল্লামা ইয়াহইয়া মাহমুদ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মুফতী মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতী রেজাউল করীম আবরার ও মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফীসহ উলামা-মাশায়েখ নেতৃবৃন্দ।











