spot_img
spot_img

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে সিরিয়া: রয়টার্স

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে সিরিয়া। বিবেচনাধীন বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবকে হুথিদের হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া অথবা সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীকে সহায়তা করতে সিরীয় বাহিনীকে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় মোতায়েন করা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক আমেরিকান কর্মকর্তা ও এক সিরীয় সামরিক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সিরিয়াকে সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা আহমদ জাইদান। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে এক সিরীয় কূটনীতিক বলেন, হুথিদের হামলার মুখে সিরিয়া দৃঢ়ভাবে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। তবে সরকারের প্রধান মনোযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের দিকে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির গৃহযুদ্ধ থেকে পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়।

ওই কূটনীতিক এক বিবৃতিতে বলেন, “সৌদি আরব যদি কোনো সামরিক সহযোগিতা বা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অনুরোধ জানায় তাহলে তা একান্তভাবেই সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে এবং আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্ক পরিচালনাকারী দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে।”

সৌদি সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় এবং ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেননি।

সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের সহায়তার জন্য আমেরিকা থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের কাছে ব্যাপকভাবে সহায়তা চেয়ে আসছে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছিল।

মাটিতে যুদ্ধ পরিচালনা করছে সৌদি আরবের বিমান সহায়তায় ইয়েমেন সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। সোমবার অভিযান শুরুর পর থেকে তারা সীমিত অগ্রগতি অর্জন করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা মঙ্গলবার রিয়াদে সরকারি সফরে গিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সৌদি আরবকে সম্ভাব্য সিরীয় সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়। মোহাম্মদ বিন সালমান ‘এমবিএস’ নামেও পরিচিত।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান তাকে তার বিমানে উঠিয়ে দিতে এগিয়ে দেন। খালিদ বিন সালমান সৌদি যুবরাজের ভাই এবং ইয়েমেন বিষয়ক দায়িত্বও তিনি তদারক করে আসছেন।

সেনা মোতায়েনে প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে পারে

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সাবেক নেতা বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সিরীয় যোদ্ধাদের গত কয়েক বছরে অন্যান্য সংঘাতে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তবে দামেস্কের জন্য সম্ভাব্য যেকোনো সেনা মোতায়েন ঝুঁকিপূর্ণ।

সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে গঠিত মিলিশিয়াগুলো এখন নবগঠিত সিরীয় রাষ্ট্রের অধীনে রয়েছে। এই রাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে চলার নীতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ইরানের যুদ্ধও রয়েছে। কারণ তারা ১৪ বছরের সিরীয় গৃহযুদ্ধ থেকে পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দিতে চায়।

আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা সাবেক বিদ্রোহী জোটের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী নিয়ে এখনো সিরিয়ার সেনাবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে। ওই জোটে অনেক কট্টরপন্থী সুন্নি ইসলামপন্থী ও বিদেশি যোদ্ধা ছিল। একই সঙ্গে সরকার আলাওয়িসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আলাওয়িরা শিয়া ইসলামের একটি শাখা এবং আসাদ এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ওই সেনাবাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে এর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী ধর্মীয় মাত্রা যুক্ত হতে পারে। হুথিরাও শিয়া ইসলামের একটি শাখার অনুসারী। সিরিয়ার নেতৃত্ব এবং তাদের পশ্চিমা অংশীদাররা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চায়।

এই কারণেই এর আগে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার জন্য আমেরিকার দেওয়া অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল সিরিয়া।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়াকে ইরান এবং তাদের মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকে থাকা মিলিশিয়াগুলো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেও দেখতে পারে। সাবেক সিরীয় বিদ্রোহীরা বর্তমানে যারা দেশটির শাসক হয়েছে তাদের সঙ্গে এসব পক্ষের অতীতে সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে।

সমর্থন দেখাতে আগ্রহী

একই সময়ে শারা সৌদি আরব ও এমবিএসের প্রতি সিরিয়ার সমর্থন দেখাতে আগ্রহী। সাবেক এই জিহাদিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে এমবিএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে শারা ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করাও রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব সিরিয়াকে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে। সিরিয়ার পক্ষ থেকে সমর্থন দেখানো হলে সেই সহায়তা আরও বাড়তে পারে।

লন্ডনভিত্তিক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলেন, “নতুন সিরিয়া যদি ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোতে খুব অল্পসংখ্যক প্রতিরক্ষাকর্মী পাঠায় এবং আগত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে কারিগরি সহায়তা দেয় তাহলে তা অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইতিবাচক প্রতীকী বার্তা হবে।”

তিনি বলেন, “কিন্তু এর বাইরে বিশেষ করে সিরীয় সেনাদের সরাসরি মাটিতে মোতায়েন করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রস্তাব হবে। আমার মনে হয় দামেস্ক এটি এড়িয়ে চলবে। কারণ বর্তমানে সিরিয়ার যে অগ্রাধিকারগুলো রয়েছে তাদের সেদিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।”

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ