spot_img
spot_img

সৌদির সুরক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত মিশর, জরুরি অধিবেশন ডাকলেন সিসি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়লে দেশটির সুরক্ষায় যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষেই মিশর এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মিশরের সামরিক একাডেমির সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিসি। একই দিন সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষায় সহায়তার বিষয়ে অনুমোদন নিতে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেন তিনি। মিশরের পার্লামেন্ট জানিয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

সিসি বলেন, “আমরা কোনো ভূমিকা পালনের সুযোগ খুঁজছি না। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি হোক কিংবা দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ুক, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় সৌদি আরবের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষায় মিশর যেকোনো পদক্ষেপ নেবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে লড়াই করা বা কাউকে আক্রমণ করার কথা বলছি না। আমরা কেবল আত্মরক্ষার বিষয়ে কথা বলছি।”

সিসির এ ঘোষণা এসেছে সৌদি আরবের ওপর ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলা নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে।

এদিকে ইয়েমেনে হুথিবিরোধী বাহিনীকে সহায়তা দিতে আবারও সক্রিয় হওয়ার পথে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে হুথিবিরোধী সরকারি বাহিনীর কিছু অংশকে অর্থায়ন পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে আবুধাবি। বিনিময়ে সৌদি আরব ওই বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

দক্ষিণাঞ্চলীয় এসব বাহিনীর মধ্যে জায়ান্ট ব্রিগেডও রয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে ইয়েমেনের সামরিক অভিযান থেকে সরে গিয়ে এসব বাহিনীর অর্থায়ন বন্ধ করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন এই সমঝোতাকে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে ইয়েমেন ইস্যুতে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ৫৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একই সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, হুথিদের লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪১৭টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় হুথিদের প্রায় ৮০০ সদস্য নিহত বা আহত এবং ১৯০টির বেশি সামরিক যান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা অকার্যকর হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইয়েমেনে হুথিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা দিচ্ছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইরানের এই সহায়তা হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ইয়েমেনে দ্রুত ভূখণ্ড দখলে ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: রয়টার্স, মিশরের পার্লামেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ