দক্ষিণ সিরিয়ার সুয়াইদায় জাবাল আল-দুরুজে নতুন একটি সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী। সিরিয়ার বিভিন্ন সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। একইসঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অনুপ্রবেশ ও সামরিক তৎপরতা সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
সিরিয়ার সূত্রগুলো জানিয়েছে, দখলদার অবৈধ ইসরাইলি বাহিনী সুয়াইদার জাবাল আল-দুরুজের চূড়ায় উন্নত সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় নতুন একটি ইসরাইলি সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসব সরঞ্জাম সেখানে নেওয়া হচ্ছে।
‘সিরিয়া ৩৬০’ সংবাদ ওয়েবসাইট একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইসরাইলের কয়েক ডজন সামরিক হেলিকপ্টার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, সরঞ্জাম ও উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ওই এলাকায় নিয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ঘাঁটিটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও আগাম সতর্কতার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। সেখানে রাডার ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হতে পারে।
সূত্রটি জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক সদস্যরা স্থাপনাটির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত এবং স্থানটি মূল্যায়ন করতে সেখানে পৌঁছেছেন। অভিযানের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ সদস্যই দ্রুজ বংশোদ্ভূত বসতি স্থাপনকারী বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
জাবাল আল-দুরুজ, যা জাবাল আল-আরব নামেও পরিচিত, সুয়াইদা প্রদেশে অবস্থিত। অঞ্চলটি মূলত দ্রুজ অধ্যুষিত।
স্থানীয় সিরীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে চালানো অনুপ্রবেশের সময় দখল করা পাহাড়ি এলাকাগুলোতে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী জরিপ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে দামেস্কের পশ্চিম প্রান্তের কয়েকটি অবস্থানও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো ‘আল-আখবার’কে জানিয়েছে, জাতিসংঘের বিচ্ছিন্নতা পর্যবেক্ষণ বাহিনী (UNDOF) স্থানীয় বাসিন্দাদের জানিয়েছে, উত্তর কুনেইত্রা গ্রামাঞ্চলের তাল আল-হামরিয়ায় একটি পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা পোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দখলদার অবৈধ ইসরাইলি সেনারা তরণজার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যেতে সতর্ক করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, গ্রামটিকে হাদেরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কের পাশে নতুন নির্মিত প্রতিবন্ধকগুলোর কাছেই তাদের বাড়িঘর রয়েছে।
জানা গেছে, এই অভিযানে প্রায় চার দুনাম জমি ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরে এসব প্রতিবন্ধক সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে সেখানে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে থাকে। সর্বশেষ মোতায়েনের সময় চারটি ট্যাংক সেখানে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাল আল-হামরিয়ায় লজিস্টিক সরঞ্জাম নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ওই স্থানটি সিরিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে একটি উন্নত পর্যবেক্ষণ পোস্টে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
দখলদার অবৈধ ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা দামেস্কের পশ্চিমাঞ্চলের দারবাল এলাকার দিকেও বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে বাকাসেমের কাছে পরিত্যক্ত সামরিক ব্যারাকে বোমাবর্ষণ এবং দামেস্ক ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী গোয়েন্দা ড্রোনের উড্ডয়ন চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব অনুপ্রবেশের সময় সাময়িক তল্লাশি চৌকি স্থাপন, বেসামরিকদের তল্লাশি এবং ইসরাইলি বাহিনী প্রবেশ করা গ্রাম ও শহরগুলোর বাড়িঘর পরিদর্শনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশেষ করে কুনেইত্রায় অভিযান, গোলাগুলি ও সড়ক বন্ধ করে দেওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সেখানে তল্লাশি চৌকিগুলো প্রায়ই সিরীয় বেসামরিকদের অবাধ চলাচলে বাধা দেয়।
কখনো কখনো বাসিন্দারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহতভাবে সম্প্রসারিত হওয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সূত্র : তাসনিম নিউজে এজেন্সি











