সৌদি আরবের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনীর হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই এ অনুমোদন দেওয়া হলো। তুরস্কের পার্লামেন্টে জমা দেওয়া একটি নথি অনুযায়ী, চুক্তিটিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পার্লামেন্টে ২৭৯ ভোট পক্ষে ও ১১৯ ভোট বিপক্ষে চুক্তিটি পাস হয়।
চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরকারী দেশগুলো একে অপরের আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি মোকাবিলায় ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে এই অনুচ্ছেদ কার্যকর করা যাবে।
চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ অন্য কোনো দেশ বা দেশগুলোর গোষ্ঠীর সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে, চুক্তির পক্ষগুলো তাদের হাতে থাকা পারস্পরিক সহায়তার সব ধরনের ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত পক্ষকে অবিলম্বে সহযোগিতা করবে।
চুক্তির এই গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তির মাধ্যমেই ন্যাটো সামরিক জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সরকার সামরিক সম্পদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা এসব উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চুক্তির অন্যান্য অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা ও সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে পারস্পরিক সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য বিভিন্ন হুমকি প্রতিরোধ করা।
এসব অনুচ্ছেদে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ পরিচালনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়া এবং রসদ ও গোয়েন্দা সম্পদ ভাগাভাগি করার অঙ্গীকার রয়েছে।
তুরস্কের আইনপ্রণেতাদের অনুমোদিত চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো ১০ বছর এই চুক্তির আওতায় থাকবে। এরপর তারা চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমান সদস্যদের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্য দেশগুলোরও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে চুক্তি অনুমোদিত হলেও সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েন করা হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের গত অক্টোবরে বলেছিলেন, চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি আরবকে সম্ভাব্য সহায়তার পরিধি নির্ধারণ করা হবে।
তুরস্কের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলের বলেন, ‘হুথি বাহিনীর সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই বিবেচনা করছি না।’ বরং তুরস্কের সহায়তার লক্ষ্য হবে ‘প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা’।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে হুথি বাহিনী। বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে তারা।
এদিকে আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই যুদ্ধ সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সৌদি আরব ঘোষণা করেছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর আগে রিয়াদ কয়েকবার হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছে। তবে ইসলাম ধর্মের পবিত্র এই দুটি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু, রয়টার্স











