আলাদা পাঁচটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক বছর করে বাড়িয়েছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মুহাম্মাদ আবদুল হাফিজের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মানহানির অভিযোগে করা ঢাকার তিনটি এবং নড়াইলের মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ান। এছাড়া কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগের মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছে বিচারপতি এএফএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান সূজা।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হবে, যদি জনগণ চায়।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুটি দুর্নীতি মামলায় একটি ৭ বছর একটিতে ১০ বছর সাজা হয়েছে। তাকে মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি শর্তে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি বাসায় আছেন। তার কোভিড হয়েছিল, হাসপাতালে গেছেন। যেদিন থেকে হাসপাতালে গেছেন, সেদিন থেকে বলা শুরু করেছেন- বিদেশে যেতে দেন, বিদেশ যেতে দেন। আমরা যদি বাংলাদেশে থেকে মানুষকে সুস্থ করতে পারি তাহলে বিদেশ যাওয়ার দরকার আছে? এ সময় তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা বলেন- বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা? আপনারা বললে আমরা তাকে বিদেশ যেতে দেবো?
গত রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শর্তসাপেক্ষে তিনি (খালেদা জিয়া) যে জামিন পেয়েছেন এবং চিকিৎসা করাচ্ছেন, সেই সময়টা বর্ধিত করার জন্য তার ছোট ভাই একটা আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনটি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর আমরা অনুমোদন দিয়েছি। আগের শর্ত বহাল রেখে চতুর্থবারের মতো সাজার মেয়াদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয়। তখন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, আমি সুপারিশ করেছে। যতদূর শুনেছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি অনুমোদন করেছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। প্রথমে তাকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও পরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। স্বাস্থ্যগত অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এর আগে দুইবার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু দুইবারই তা নাকচ হয়ে যায়।











