গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সরকার ব্যবস্থায় স্থায়ী সমাধান না হলে বিএনপিও বর্তমান সরকারের পথ অনুসরণ করবে। তারাও ভবিষ্যতে সরকারে এলে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চাইবে।
সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন না এনে নির্বাচন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যেই ক্ষমতায় আসুক, জনগণের রায় মেনে তারা যেন স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। অন্যথায় ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসবে তারা বর্তমান সরকারেরই পথ অনুসরণ করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার প্রচেষ্টা চালাবে। অতএব সরকার ব্যবস্থায় একটা স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। এতে তাদের লাভ। তারাও বর্তমান সরকারের মতোই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চাইবে। কিন্তু জনগণের কোনো লাভ নেই। জনরায় মেনে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো একটা সরকার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। আমরা যদি শুধুমাত্র একটা নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকারের কথা বলি, সেটা কোনো সমাধান দেয় না। ১৯৯৫, ২০০১ ও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিষ্কার বোঝা যায়, এই জোড়াতালি দিয়ে হবে না। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছিল। তারাই এখন বলছে, তত্বাবধায়ক সরকার গণতন্ত্রের জন্য সম্মানজনক নয়। আমরাও একসময় বলেছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্মানজনক নয়, আমাদের একটা স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোনো দরকার।
জোনায়েদ সাকি বলেন, সংবিধানে ক্ষমতা কাঠামোর এমন সংস্কার দরকার, যাতে আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারি। সরকারও যেন একটা নির্বাচনের আয়োজন করতে পারে, এবং সেটা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। যেখানে মানুষ অবাদে ভোট দিতে পারে। এটা তো আহ্বান করার বিষয় নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই ন্যূনতম এটা কার্যকর আছে। আমরা কেন সে জায়গায় যেতে পারবো না। কিন্তু আমরা এখনো পারিনি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় গিয়েছিলাম। রাষ্ট্রব্যবস্থা এতটাই স্বৈরতান্ত্রিক যে, তত্ত্বাবধায়ককেই গিলে খেয়ে ফেলছে।










