spot_img

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলো আফগানিস্তান

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলো ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এবিষয়ে একটি বিবৃতি দেয় দেশটির সরকার।

বিবৃতিতে সরকার মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে যে, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে আল কায়েদা তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছে। ইমারাত সরকারের অধীনস্ত কিছু গোষ্ঠী এসবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান জাতিসংঘের এমন ভিত্তিহীন দাবী দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

তিনি আরো বলেন, আফসোসের সাথে বলতে হচ্ছে যে, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানকে নিয়ে মিথ্যাচার এখন জাতিসংঘের নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। তারা নিয়মিতই প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। জাতিসংঘের পরিচয় ও প্রভাবের অপব্যবহার করা হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোও নিরব থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে এই অপব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা দিচ্ছে।

সাধারণ নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র চীন, আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে পরাজয় বরণকারী এর কিছু সদস্য রাষ্ট্রের ব্যাপারে আমরা বুঝতে পারছি যে, স্বভাবতই তারা আমাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাবশত গুজব রটাচ্ছে। কিন্তু যেসব সদস্য রাষ্ট্রের সাথে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে তাদের উচিত, অন্য সদস্যদের প্রোপাগাণ্ডা ছড়াতে বাঁধা দিয়ে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানের মানক্ষুন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করা।

আল কায়েদার ঘাঁটি স্থাপন ও এতে সরকারের অধীনস্থ গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, না আফগানিস্তানের কেউ আল কায়েদার সাথে জড়িত, না ইমারাতে ইসলামিয়ার সরকার কাউকে এই ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিবে।

এছাড়া তিনি পাকিস্তান ও আমেরিকার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, দু:খজনক হলেও সত্য যে, নিরাপত্তা পরিষদ তাদের প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে দখলদারদের সহযোগীদের সূত্রের উপর নির্ভর করছে। শুধুমাত্র নিজ স্বার্থের জন্য গত ২০ বছর যাবত আফগানিস্তানের স্বাধীনতা হরণ করতে দখলদারদের পাশে থেকেছে। আফগানিস্তানের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটাতে সহযোগিতা করেছে।

আমরা আশাকরি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে। সাম্রাজ্যবাদীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য আদায়ে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করবে না যার ফলে আফগানিস্তানে এর অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চরম আপত্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়। আপনাদের স্মরণে রাখা উচিত যে, গত ২০ বছরের বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলো এই ধরণের ভিত্তিহীন তথ্যের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে সদ্য প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয় যে, আফগানিস্তানে ৮টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে আল কায়েদা। আর তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে সহায়তা দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয় যে, আফগান তালেবানের অধীনে থাকা কিছু গোষ্ঠী টিটিপিতে শুধু অংশগ্রহণই করেনি বরং টিটিপি সদস্যদের পরিবার-পরিজনেরও দেখভাল করছে।

সূত্র: আল ইমারাহ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ