ভারতের বিাহরের নালন্দা জেলায় ২০ বছর বয়সি এক তরুণীকে প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি এবং গণধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বুধবার (১ মার্চ) দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটলেও তা প্রকাশ্যে আসে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যখন অভিযুক্তদের একজনের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, ওই তরুণী নালন্দা জেলার একটি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। তার স্বামী কাজের সূত্রে মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে। সেসময়ে তিনি বাজার সেরে ফেরার পথে তিনজন অভিযুক্ত তাকে জাপটে ধরে। তিনি বাধা দিলে তারা তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পোশাক ছিঁড়ে ফেলে।
ওই তরুণী প্রতিরোধের চেষ্টা করেন এবং চিৎকার করে সাহায্য চান। কিন্তু অভিযুক্তরা তাতে কান দেয়নি। এদিকে মহিলার চিৎকারে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। কিন্তু তাদের সামনেই মহিলাকে গণধর্ষণের চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা তরুণীকে শ্লীলতাহানির পাশাপাশি ধর্ষণের চেষ্টা করে। পুরো ঘটনাটি তারা ভিডিও আকারে মোবাইলে ধারণ করে।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী তরুণী নূরসরাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত অশোক যাদব এবং মাতলু মাহাতো ওরফে নবনীত কুমার নরোত্তমকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্ত রবিকান্ত কুমার বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-এর আওতায় শ্লীলতাহানি, শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে হামলা, ধর্ষণের চেষ্টা এবং ভীতি প্রদর্শনের ধারায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।










