রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার পরিসংখ্যান সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। শুধু বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিটের সত্যায়িত কপি এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে যদি দেখা যায় যে মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, জনস্বার্থে মামলা চালানোর প্রয়োজন নেই এবং মামলা চালালে রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে, তাহলে ওই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।
তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটির কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ২০২৬ সালের ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৬ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।










