ইমারাতে ইসলামিয়ার আফগানিস্তানের মূল্যবোধ ও স্থিতিশীলতা দুর্বল করার লক্ষ্যে বিদেশি শক্তিগুলো বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদাখশানের গভর্নর মাওলানা রহমতুল্লাহ নাজিব। আফগানিস্তানে আমেরিকা ও পশ্চিমা বাহিনীর সাবেক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের হাতে থাকা সম্পদ ও সক্ষমতা সত্ত্বেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বাদাখশানে ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় শরিয়াহ বাস্তবায়ন ও জনসমন্বয় নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা নাজিব বলেন, বিদেশি দেশগুলো আফগান তরুণদের প্রভাবিত করে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। তরুণ আফগানদের বিদেশি প্রচারণা ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর লোক নিয়োগের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সহিংসতার অবসানের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন, বিশেষ করে মুসলিমদের জীবন, সুরক্ষিত রাখা উচিত এবং তা বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। বৈধ ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছাড়া জিহাদের নামে পরিচালিত কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ডকে জিহাদ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু আফগান তরুণ দুরান্ড লাইন থেকে আসা প্রচারণায় প্রভাবিত হয়েছেন এবং তাদের ইমারাতে ইসলামিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের বিরোধিতা এবং এর ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মাওলানা নাজিব আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরিবর্তে ইমারাতে ইসলামিয়ার বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে। মাওলানা নাজিব দাবি করেন, কিছু তরুণ আফগানকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফিরে আসার সীমিত সুযোগ রেখে সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রশাসন তার বিরোধীদের মোকাবিলা করতে এবং জননিরাপত্তার জন্য তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম।
বক্তব্যের শেষে মাওলানা নাজিব বর্তমান ব্যবস্থাকে সব আফগানের অভিন্ন ঘর হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের ঐক্য বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং আরও সংঘাত ও রক্তপাত প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











