যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হলে দীর্ঘদিনের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী নীতি বহাল রাখা হবে কি না, তা নিয়ে ইরানে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসেন রেজাই।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, যুদ্ধ ফের শুরু হলে ইরান তার বর্তমান পরমাণু নীতি বহাল রাখবে কি না, সেই প্রশ্নটি এখন আলোচনায় এসেছে। তবে সরকার বা সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে এখনো নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
রেজাই বলেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলার পর দেশটির জনগণের মধ্যে পরমাণু নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের জন্য ইরান পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার পরও এসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি নিয়েও কথা বলেন রেজাই। তিনি বলেন, চিঠিটি তিনি পড়েছেন, তবে এখনো কোনো জবাব দেননি। তার ভাষ্য, আমেরিকার বক্তব্যের সুর পুরোপুরি বদলে গেছে এবং এটিকে তিনি ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ভ্যান্স গত সপ্তাহে রেজাইকে চিঠি পাঠান ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ হিসেবে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা চিঠিটি রেজাইয়ের কাছে পৌঁছে দেন। এতে ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব এবং শুরু থেকেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়।
রেজাই বলেন, আমেরিকা ইরানের দাবিগুলো পূরণ করার পরই পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু অধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা হলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় দেশটির অধিকারকে সম্মান করতে হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে। তবে শনিবার ইরানি কর্মকর্তারা আমেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন।











