ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ কি ইসরাইলকে উত্তর ফ্রন্টে ব্যস্ত রেখে তেহরানের জন্য চাপ কমানোর চেষ্টা করছে? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো দেখাচ্ছে, যুদ্ধে হিজবুল্লাহর সীমিত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ প্রবেশে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর অবশ্যই বেড়েছে; তবে এটিকে পুরোপুরি ইরানের সুস্পষ্ট কেন্দ্রীয় কৌশল বলে নিশ্চিত করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ বলেছে তারা হাইফার দক্ষিণে একটি ইসরাইলি সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্য করেছে, এবং এটি করা হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে। এর পরই ইসরাইল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে বড় আকারে হামলা চালায়।
রয়টার্স আরও বলছে, এটি ছিল ২০২৪ সালের যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রথম এমন দাবি করা সরাসরি হামলা। একই সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী হিজবুল্লাহকে উত্তেজনার জন্য পুরোপুরি দায়ী বলে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বের বহু এলাকার বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ, হিজবুল্লাহর আঘাতের পর ইসরাইলকে সঙ্গে সঙ্গেই লেবানন ফ্রন্টে সামরিক মনোযোগ বাড়াতে হয়েছে।
কিন্তু এর আগে ছবিটা ছিল আরও সতর্ক। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্স জানায়, আমেরিকা-ইসরাইল জোটের হামলার পর হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি সংহতি জানালেও সরাসরি যুদ্ধে নামবে কি না, তা স্পষ্ট করেনি। তারও আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্স জানায়, হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়ালে ইসরাইল লেবাননে কঠোর হামলা চালাবে বলে বৈরুতকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এই দুই তথ্য মিলিয়ে দেখায়, হিজবুল্লাহর প্রবেশ তাৎক্ষণিক ও পূর্ণমাত্রার ছিল না; বরং হিসাব কষে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের মতো দেখাচ্ছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণও একই রকম ইঙ্গিত দেয়। তাদের ভাষায়, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলো এখন ‘প্রতিশোধ’ ও ‘নিজেদের টিকে থাকা’ মাঝখানে আটকে আছে। আল জাজিরা বলছে, হিজবুল্লাহর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল সতর্কভাবে ক্যালিব্রেট করা; ভাষা ছিল প্রতিরক্ষামূলক, সরাসরি আক্রমণাত্মক নয়। তারা আরও লিখেছে, ২০২৪ সালের যুদ্ধ, নেতৃত্বের ক্ষয় এবং সরবরাহপথ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় হিজবুল্লাহ এমন অবস্থায় আছে যে পূর্ণাঙ্গ উত্তর ফ্রন্ট খোলার মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই।
সেখান থেকে যে পর্যবেক্ষণটি স্পষ্ট, তা হলো: হিজবুল্লাহর এই হামলা ইসরাইলকে অবশ্যই লেবাননমুখী নতুন সামরিক ব্যস্ততায় ঠেলে দিয়েছে, আর একই সময়ে ইরান অন্য দিক থেকে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্র ছড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলের মনোযোগ ভাগ করার একটি বাস্তব প্রভাব তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো এখনো এটিকে তেহরানের নিখুঁতভাবে সমন্বিত, সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ডাইভারশন স্ট্র্যাটেজি বলে নিশ্চিত করেনি; বরং এটিকে সীমিত, প্রতীকী ও হিসাবি অংশগ্রহণ হিসেবে দেখাচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা, রয়টার্স, এপি











