spot_img
spot_img

পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়: ধর্মমন্ত্রী

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, পবিত্র কালেমা খচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা কিংবা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক উলামায়ে কেরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই।

তিনি বলেন, ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতী মুহাম্মাদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদরাসা, ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতী এবং বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার মর্যাদা সংরক্ষণ, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মুফাসসিরগণ বলেন, ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ আন্তরিক ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কালেমা খচিত পতাকা বহন করলেও পরবর্তীকালে একটি বিশেষ মহল এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা বলেন, কোথাও কোথাও কালেমা খচিত পতাকাকে অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর ঘটনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ যুবসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ইসলামের পবিত্র প্রতীকসমূহের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো মহল যদি ধর্মীয় প্রতীককে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তবে আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে।

তারা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান পীর সাহেব দেওনা, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, মুফতী হারুন ইজহার, মুফতী আজহারুল ইসলাম, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি শরিফ উল্লাহ, মুফতী ইমাদুদ্দিন, মুফতী মোহাম্মদ আলী, মাওলানা এজহারুল হক, মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুণবী, মাওলানা আহমদ রফিকসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাবৃন্দ।

সভায় বক্তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে আলেম সমাজ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়, সমন্বয় এবং যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা। যাতে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং সব ধরনের ষড়যন্ত্র, বিভেদ ও অস্থিতিশীলতা থেকে দেশকে হেফাজতের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এ ছাড়া মন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ