spot_img

গোয়েন্দা ও মিডিয়া আগ্রাসনের প্রতিবাদে ভারতের দূতাবাস বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজত

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সকল ধরণের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা ও ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ ও আগ্রাসী মনোভাব বন্ধের দাবিতে ভারতের হাইকমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) হেফাজত ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আয়োজনে এই কর্মসূচী পালন করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানের আগে জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী। বক্তব্য রাখেন হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা নাসির উদ্দিন মনির, মাওলানা মীর ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা নুরুন্নবী, মাওলানা জুনাইদ বিন ইয়াহিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা কুতুব উদ্দিন, মাওলানা আসহাব উদ্দিন, মাওলানা শিবলী নোমানী, মাওলানা জিহাদুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে কাজির দেউড়ি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

পরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ পেশ করা হয় –

১. ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যা প্রচার বন্ধে পদক্ষেপ ভারতীয় গণমাধ্যমে যেভাবে বাংলাদেশবিরোধী মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা বন্ধে ভারত সরকার যেনো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

২. রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ সংক্রান্ত বক্তব্যে অধিক সংযম ও দায়িত্বশীলতা আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিভ্রান্তমূলক ও অসত্য মন্তব্য যেন অবিলম্বে বন্ধ হয়।

৩. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সকল ধরণের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা বিগত ফ্যাস্টিস্ট সরকারের অবৈধ ক্ষমতা গ্রহণ ও আদর্শিক ভিন্ন মতালম্বীদের দমন নিপীড়নে আপনার সরকারের সমর্থন এবং তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের নানান অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। আমরা এ জাতীয় তৎপরতার পরিসমাপ্তি কামনা করছি।

৪. দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা আমরা সুনিশ্চিতভাবে বলতে চাই, এ ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে আপনার সরকারের সদয় হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করি, যাতে পরবর্তীতে দুই দেশের মসৃণ ও ইতিবাচক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ