ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের প্যানেলে থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তার সরকারের পতনের ঠিক দুই বছর পূর্তির দিনে এই আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছেলে ও তার সাবেক তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক এবং সংস্থাটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার অংশ নেবেন।
প্যানেলে আরও থাকবেন সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ এবং রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবসের সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।
তবে আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাকিব আল হাসানের অংশগ্রহণকে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর শেখ হাসিনার সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। একই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন সাকিব। এ সময় বিভিন্ন কারণে আলোচনায় এলেও রাজনৈতিক বিষয়ে তাকে প্রকাশ্যে খুব কমই বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে একই প্যানেলে তার উপস্থিতির খবর দেশের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা ও তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথনকশা নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। তবে তিনি নয়াদিল্লির অনুষ্ঠানস্থলে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।
এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে বক্তব্য দেওয়া এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ড. আউয়াদ আরও বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতের সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণের মধ্যেও ক্লাবটি নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের বিষয়ে কোনো আপত্তি বা বাধা দেওয়া হয়নি।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা শেখ হাসিনা ও প্যানেলের অন্য সদস্যদের প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন। ক্লাবটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতের অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা সরাসরি গণমাধ্যম অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে










