ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদিস ও সদরুল মুদাররিসিন, বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও গবেষক মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.) অসাধারণ লেখনী, গভীর ইলম এবং হৃদয়গ্রাহী পাঠ উপস্থাপনার মাধ্যমে আলেম সমাজ ও দ্বীনপ্রিয় মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। তিনি ছিলেন ইলম, আমল, তাদরিস, তাসনিফ ও দাওয়াতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক শাইখুল হাদিস মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আবুল ফাতাহ কাসেমী রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীনের সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী ও মুফতী জাবের কাসেমীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি হয়।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মুফতী মকবুল হোসাইন কাসেমী, মুফতী এনামুল হক কাসেমী, মুফতী মুহাম্মদ আলী, মুফতী আব্দুস সালাম, মাওলানা জিকরুল্লাহ খান, মুফতী ইমাদ উদ্দিন, মাওলানা মাসউদুল করিম, মাওলানা আব্দুল আখির, মুফতী আনোয়ার মাহমুদ, মুফতী মঈনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা আইনুল হক কাসেমী ও মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ কাসেমী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ভারত উপমহাদেশে হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর পর মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.) ইসলামের বিভিন্ন অঙ্গনে সমানভাবে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি ছিলেন ইলম, আমল, তাদরিস, তাসনিফ ও দাওয়াতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
বক্তারা আরও বলেন, শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.)-এর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি ও গভীর চিন্তাধারাকে তিনি বর্তমান প্রজন্মের সামনে অত্যন্ত সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। তাঁর পাঠদান ছিল জ্ঞানগর্ভ, হৃদয়গ্রাহী ও প্রজন্ম গঠনের অন্যতম মাধ্যম। তাঁর অসংখ্য রচনা ও দরস আজও আলেম-তালাবা ও দ্বীনপ্রিয় মানুষের জন্য মূল্যবান পাথেয়।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর হাজার হাজার ছাত্র ছড়িয়ে রয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ তাঁর ইলম, বয়ান ও দ্বীনি খেদমত থেকে উপকৃত হয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ মরহুমের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আল্লাহ তাআলা মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)-এর সব দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসে উচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর রেখে যাওয়া ইলমি খেদমতকে কিয়ামত পর্যন্ত সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন।











