৫৯০ দিনের কারাভোগ শেষে অবশেষে মুক্তি পেলেন ভারতের প্রখ্যাত দাঈ কলিম সিদ্দিকী।
বুধবার ( ৩ মে) ছাড়া পান তিনি।
জানা যায়, হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ইসলাম ধর্মে প্রভাবিত করা ও লাভ জিহাদ, সহ আরো বিভিন্ন ধরণের উদ্ভট অভিযোগে কট্টর হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার ২০২১ সালের বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেফতার করে।
তার বিরুদ্ধে কট্টর হিন্দুত্ববাদী মোদির প্রশাসনের প্রধান অভিযোগ ছিলো জামিয়া ওয়ালি উল্লাহ ট্রাস্ট যার আওতায় ভারতজুড়ে হাজার হাজার ইসলামী শিক্ষা ও দাওয়াতী মিশনের মাদরাসা রয়েছে, তার মাধ্যমে তিনি ৩ কোটি রুপি বিদেশি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন।
এছাড়া ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বরে মুসলিম অধ্যুষিত আসাম, কাশ্মীর সহ অন্যান্য এলাকায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমানোর লক্ষ্যে নাগরিকত্ব আইন পাশের মাধ্যমে ভারতজুড়ে যে বিতর্ক ও দাঙ্গা দেখা দিয়েছিলো এরজন্যও এই প্রখ্যাত আলেমকে দায়ী করা হয়েছিলো। কেননা দিল্লির শাহীনবাগ যেখানে কালিম সিদ্দিকী বসবাস করেন সেই এলাকাটি প্রতিবাদের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে উঠেছিলো।
মুসলিম তরুণদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে হিন্দু তরুণীগণ তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ও ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার ঘটনা যদিও অনেক প্রাচীন এবং স্বাভাবিক একটি বিষয়, কিন্তু এরপরও হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার একে জিহাদের অন্যতম একটি শাখা বলে প্রচার করে নিজেদের ইসলাম বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটায়। একে তারা লাভ জিহাদ বলে নাম দেয় এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন ফৌজদারি আইনও প্রণয়ন করে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে লাভ জিহাদের মূলহোতা রূপে তারা মাওলানা কলিম সিদ্দিকীকে দায়ী অভিযুক্ত করে আসছে।
কেননা ইসলামের সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা ও আখলাকে মুগ্ধ হয়ে দলে দলে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা মাওলানা কলিম সিদ্দিকী, তার সহযোগী ও শিষ্যদের কাছে ইসলামে দীক্ষিত হতে ভীড় জমাচ্ছিলো।
এছাড়াও তার সংস্পর্শে এসে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের অভাবনীয় পরিবর্তন ভাবিয়ে তুলছিলো ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্ষমতায় আসা মোদি সরকারকে।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপি, আরএসএস ও অসংখ্য কর সেবক কর্তৃক ঐতিহাসিক শহীদ বাবরি মসজিদের ধ্বংসযজ্ঞে যে কর সেবক বালবীর সিংহ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই তিনিই পরবর্তীতে মাওলানা কলিম সিদ্দিকীর সংস্পর্শে এসে মুহাম্মদ আমীর হয়ে গিয়েছিলেন।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর বাবরী মসজিদ ও নিরপরাধ নিরীহ মুসলিমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রায়শ্চিত্ত করতে ভারতজুড়ে তিনি ১০০ টিরও বেশি মসজিদ নির্মাণ করেন।
সূত্র: মিল্লাত টাইমস











