পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনিত “সাইফার মামলার” শুনানি প্রকাশ্য আদালতে অনুষ্ঠিত হলে অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)।
গত শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরকারি গোপন নথিপত্র ফাঁস মামলায় (সাইফার মামলা) পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান ও তার প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকে দোষী ঘোষণা করে বিশেষ আদালতে চার্জশিট পেশ করে এফআইএ।
“এফআইএ” এর প্রতিবেদনটি ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমির ফারুকের ঘোষণার পরপরই এসেছে, যেখানে তিনি ইমরান খানের জামিন আবেদনের শুনানি প্রকাশ্য আদালতে হওয়ার ঘোষণা দেন।
গত রবিবার, ইমরান খানের সাইফার মামলার শুনানি ক্যামেরা ট্রাইলে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জন্য উচ্চ আদালতের কাছ একটি আবেদন জমা করেছে এফআইএ।
স্থানীয় গণমাধ্যম গুলোর মতে, প্রকাশ্য আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হলে এই মামলার সাথে জড়িত সংবেদনশীল তথ্য ও নথিপত্র প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কা করছে এফআইএ।
গত বছর অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ছিটকে পড়েন ইমরান খান। তাকে প্রদচ্যুত করার পেছনে আমেরিকার ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে একটি অভিযোগ আনেন তিনি। তার অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ দেখানোর জন্য জনসভায় একটি নথিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। তবে এ নথি অস্বীকার করে ওয়াশিংটন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপন কূটনৈতিক নথি প্রকাশ্যে এনেছেন বলে অভিযোগ গঠন করা হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন ইমরান খান।
এই মাসের শুরুতে, ইমরান খান ও মাহমুদ কুরেশির গ্রেফতার পরবর্তী জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ট্রায়াল কোট। জামিনের জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্ররোচনা দেওয়া হয়।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের শুনানিতে, প্রকাশ্য আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চললে তা অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে বলে যুক্তি দেখান প্রসিকিউটর।
প্রসিকিউটর বলেন, “শুনানির জন্য আদালতে আমাদের অন্যান্য দেশের বিষয়েও বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। প্রকাশ্য আদালতে এ ধরনের বক্তব্য উপস্থাপন করলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানান ইমরান খানের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, এফআইএ তাদের নিজস্ব অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে যেখানে তাদের অভিযোগ ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সরকারি গোপন নথিপত্র প্রকাশ্যে এনেছেন।
এদিকে, সোমবার ইমরান খানের ৯ টি মামলায় ট্রায়াল কোর্টের জামিনের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। শুনানিতে যোগ না দেওয়ার জন্য তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে দুটি বিচার আদালত।
উল্লেখ্য; গত বছরের এপ্রিল মাসে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। গত ৫ই আগস্ট, তাকে একটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
রাওয়ালপিন্ডি কারাগারের পরিবর্তে অ্যাটকের একটি উচ্চ নিরাপত্তা বিশিষ্ট কারাগারে প্রেরণ করা হয় তাকে। গত ২৯শে আগস্ট, তোশাখানা (রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি) দুর্নীতি মামলা থেকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সাইফার মামলার জন্য কারাগারে থেকে যান তিনি। এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন ইমরান খান।
গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে অ্যাটক কারাগার থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে ইমরান খানকে।
সূত্র: আনাদোলু নিউজ এজেন্সি, ডন ও আরব নিউজ










