বৃহস্পতিবার | ৫ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটে আল্লাহ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় নিলে সকলের জন্য ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। কারো দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না। একজন সাধারণ নাগরিক দুর্নীতি করলে লুটপাট করলে যেমন বিচারের আওতায় আনা হবে তেমনি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি দুর্নীতি করলে লুটপাট করলেও বিচারের আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্ররা কোটার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। একদিনে আবু সাঈদসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয় এক পর্যায়ে আন্দোলন সরকারের পতন আন্দোলনে রুপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই আন্দোলনে বিরোধীরা ছাত্রীদের নির্যাতন করতেও বাদ দেয়নি। যার ফলে দেশের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয় হাজারও ছাত্র-জনতার লাশ ও রক্ত জাতিকে উপহার দিয়ে ৫ আগষ্ট সেই সরকারের পতন হয়। সরকার পতনের পর আরেক দল রাতারাতি চাঁদাবাজীর সকল দপ্তর নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নেয়। দেশের মানুষ আর আগের মতো সন্ত্রাস চাঁদাবাজী লুটপাট দেখতে চায় না। দেশের মানুষ সন্ত্রাস চাঁদাবাজী লুটপাটে জড়িতদের আগামী ১২ তারিখে লালকার্ড দেখাবে। দেশের মানুষ এখন মুক্তভাবে কথা বলতে পারে। সভা সমাবেশে মা বোনেরা আসছে তাদের মতামত তুলে ধরছে।

তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মদিনার আদলে দেশ গঠন করে জাতিকে উপহার দেয়া হবে। রাত দিন যেকোনো সময় কোন নারী পথে বের হলে তাকে অসম্মানিত হতে হবে না। কেউ নারীকে অসম্মান করতে চেস্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমার বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা বেকারদের সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম করতে চাই। যুবকরা যেন দেশে বিদেশে সব জায়গায় কাজ পায় এমন শিক্ষা দিতে চাই। তারা যেন গর্ব করে বলতে পারে আমিই বাংলাদেশ।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের যুবকরা সাহসী উদ্যোমী উদ্যোগী, প্রয়োজন শুধু সুশিক্ষা আমরা সেটাই তাদের দিতে চাই। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫ বছর পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর এবং ৬৫ বছরের উর্দ্ধে সকল মানুষের সুচিকিৎসার দায়িত্ব নিবে সরকার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব করতে বেশি টাকা লাগবে না। দেশে দুর্নীতি ব্যাংক লুট না হলেই সব করা যাবে, টাকার কোন সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, একটি পক্ষ চাকুরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। সবাই আমরা ভাই ভাই, কেউ আমাদের বিরোধী নয়। এখন পে-স্কেলের জন্য আন্দোলন করতে হয়। এটা আর করতে হবে না। দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে। যার যার উপযুক্ত প্রাপ্য তা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ সম্মান সুযোগ সুবিধা না দিয়ে আবার আগেই দুর্নীতির অভিযোগ করলেও হবে না। চোর চুরি করলে আগে দেখতে হবে তার মৌলিক চাহিদা পুরুনের ব্যবস্থা আছে কি না। আগে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। খাবার না দিয়ে চোরের বিচার করতে বসলে হবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের খাবারের ব্যবস্থা করা।

তিনি বলেন, কিছু হলেই আমরা বিদেশে চাই চিকিৎসা নিতে। এটা যেন করতে না হয় তাই জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নাটোরসহ ৬৪ জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রয়োজন মতো বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান মুসলিম সবাই একই বাগানের একেকটি ফুল। কাউকে আমরা কোনোভাবে বঞ্চিত করতে চাই না। বঞ্চিত করার সুযোগও কাউকে আর দেয়া হবে না। তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি লুটপাট না থাকলে এদেশ রকেটের গতিতে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের বিষয়ে কোনো অবহেলা করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ১১ দলীয় জোটের জোয়ার শুরু হয়েছে। সত্যের পথে পুরুষের সাথে নারীরা রাস্তায় নেমে আসছে। প্রতিটি সভা সমাবেশে নারীরাও উপস্থিত হয়ে সেই কথাই জানান দিচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষে ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দেশ প্রেমিক ছাত্রজনতার প্রতি আহ্বান জানান।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ