দখলকৃত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজ্জায় ক্ষুধার তাড়নায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ তে পৌঁছেছে।
সোমবার (৪ মার্চ) সীমান্ত শহর রাফাহ-র এক হাসপাতালে ক্ষুধার তাড়নায় ১ ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু ঘটে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, রাফাহ-র আবু ইউসুফ আল নাজ্জার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার ফলে তাদের হাসপাতালে ১ ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। পর্যাপ্ত রসদ না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির পুষ্টি ঘাটতি মেটাতে তারা অক্ষম ছিলেন বলে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এর আগে রবিবার (৩ মার্চ) উত্তর গাজ্জার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে একই কারণে ৬ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় ভুগতে থাকা ওই ৬শিশুকে হাসপাতালটির ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রেখেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো যে, আশ শিফা ও কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার ফলে ২দিনে মোট ৯ শিশুর মৃত্যু হয়।
মুখপাত্র আশরাফ কুদরা, শিশুদের করুণ মৃত্যুর জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেন এবং অবৈধ রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জানান।
এর আগে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে , আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তুমুল সমালোচনা করা হয়। ইসরাইল সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, গাজ্জায় ধারাবাহিক ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা মানবতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা।
ক্ষুধার তাড়নায় গাজ্জার শিশুদের এমন করুণ মৃত্যু বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। ফলে জর্ডানের পর ২য় দেশ হিসেবে ১ম বারের মতো গাজ্জায় আকাশপথে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে আমেরিকা।
আজ সোমবার (৪ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস গাজ্জায় আরো সহায়তা প্রেরণ করা হবে আশ্বাস দেন।
সূত্র: আল জাজিরা, আনাদোলু











