শুক্রবার | ৬ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

আমার ধর্ম আমাকে শেখায় অন্যের ধর্মকে আঘাত না করতে: মির্জ ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা হয়। যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফলো করেন তারা ভালো করে জানেন। সমালোচনা হয় এজন্যই কারণ আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি, মানবিক মূল্যবোধের কথা বলি। অসাম্প্রতিকতার কথা বলি। এজন্যই আমার সমালোচনা বেশি হয়। তবে আমি মানুষের কথা বলতেই থাকবো, সমালোচনা আমি পরোয়া করি না। আমার ধর্ম আমাকে শেখায় অন্যের ধর্মকে আঘাত না করতে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা হিন্দু-মুসলমান সবাই যে যার ধর্মকে বিশ্বাস করি। এ ধর্ম বিশ্বাসকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। আমরা বিভাজন থেকে দূরে থাকবো। বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থে একটা শান্তিময় দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাকে অনেকে অনেক কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এই ইলেকশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমাদের দেশটাকে আমরা কোন দিকে নিয়ে যাব। আমরা সামনের দিকে নিয়ে যাব, না পেছনের দিকে নিয়ে যাব। বিভাজনের দিকে নিয়ে যাব নাকি ঐক্যের দিকে নিয়ে যাব। এই সিদ্ধান্ত আপনাদেরকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আপনারা এটাও ভালো করে জানেন, আমি একজন অসাম্প্রদায়িক লোক। আমি সাম্প্রদায়িকতা বিশ্বাস করি না। আমি এই সিদ্ধান্তগুলোতে এক চুলও নড়ব না। আমাদের রাজনীতি হবে সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি। যে রাজনীতি দিতে হবে মানুষের কল্যাণের জন্য। যে রাজনীতি হবে পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা বিশ্বাস করেনি। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় পাকহানাদার বাহিনীদের হামলার জন্য সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের পক্ষে আমরা থাকতে পারি না। আমরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি এবং স্বাধীনতার পক্ষে থাকবো। তাই সেই দলকে আমরা কখনোই সমর্থন করি না।

তিনি আরও বলেন, যারা ১৯৭১ সালে আমার দেশে গণহত্যা করেছিল পাকিস্তানিদের সাহায্য করেছিল এখন পর্যন্ত তার জন্য তারা ক্ষমা চাইনি। এটা আমার পরিষ্কার কথা। এটা কেউ আমার ওপর খুশি হতে পারেন আবার অখুশিও হতে পারেন। কিন্তু আমি আমার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বাইরে কোনো কিছুই করতে পারবো না। আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ২৪শে জুলাই যুদ্ধ এই দুইটাকে ধারণ করে সামনে এগোতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। ভোটের অধিকারের জন্য। দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা আমাকে ধানের শীষে ভোট দেবেন কিনা সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত। কারণ আমি আপনাদের কাছে নতুন নই, অনেক পুরোনো মানুষ। গত ১৫ বছর আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারিনি কারণ আমাকে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। ১১ বার জেলে গেছে সাড়ে তিন বছর কারভোগ করেছি। তাই আগামী ১২-ই ফেব্রুয়ারি জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ