spot_img
spot_img

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিধবার টিপসই ও এনআইডি নিয়ে বানাল ভুয়া কাবিননামা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর ভুয়া এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় মসজিদ কমিটির কাছে বিচার দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে একদিন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নেওয়া হয়। এখন গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে আব্দুল কুদ্দুছ তাকে বিয়ে করেছেন। এতে তিনি সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে আছিয়া বেগমের বাড়িতে এ বিষয়ে সালিশ বসে। সেখানে উপস্থিত লোকজনের কাছে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। অভিযুক্ত আব্দুছ ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) আবারও সালিশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে আছিয়া বেগমের স্বামী মারা যান। তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে তিন ছেলের বিয়ে হয়েছে। তার নাতিও রয়েছে। ছোট ছেলের বয়স ১৩ বছর। বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রস্তাব এলেও তিনি বিয়ে করেননি।

প্রায় চার বছর আগে আছিয়া বেগমের মেজো ছেলে আসাদুলকে বিয়ে করানোর সময় প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুছকে উকিল শ্বশুর করা হয়। আত্মীয়তার সুবাদে তিনি প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তারের মাধ্যমে একাধিকবার আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কুদ্দুছ। তবে প্রতিবারই তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুছ ছাত্তার বর্তমান সরকারের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে নিজের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেওয়া হয়। কয়েকদিন পর একটি খাতায় তার কাছ থেকে দুটি টিপসই নেওয়া হয়।

সম্প্রতি আছিয়া বেগম ও আব্দুল কুদ্দুছ বিয়ে করেছেন দাবি করে একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে এলাকায় প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কাবিননামাটিতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা উসুল দেখানো হয়েছে। এতে আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম নামে দুজনকে সাক্ষী দেখানো হলেও তারা বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় আব্দুছ ছাত্তার ও আব্দুল হেকিম মাস্টার জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত বা আইনি সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

আব্দুছ ছাত্তারের কাছে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আব্দুল কুদ্দুছের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, তার নম্বর, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কেউ কাবিননামাটি তৈরি করে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ ভুক্তভোগী নারীকে সম্মানহানির বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স্ক এক নারীর সঙ্গে এমন প্রতারণার নিন্দা জানান তিনি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ