বুধবার | ২১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আদিবাসীদের অস্ত্র দিচ্ছে ভারত

বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া আদিবাসী বাসিন্দাদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের সরকার। আসামের কট্টর হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় রাজ্যের মুসলিমদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রাজ্যের যেসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজেদের জীবনের জন্য হুমকি অনুভব এবং সংবেদনশীল এলাকায় বসবাস করেন, তারা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, অসমীয়া ভাষাভাষী জনগণ বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে, এমনকি নিজেদের গ্রামেও হামলার হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন।

ভারতে সাধারণত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অত্যন্ত কঠোর। কিন্তু রাজ্যজুড়ে হঠাৎ করে সবার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, রাজ্য সরকারের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার এই উদ্যোগে গ্যাং সহিংসতা ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে। এটি সুশাসন নয়, বরং আইনহীনতার দিকে এক বিপজ্জনক পশ্চাৎগামী পদক্ষেপ।

এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের নিশানা করেই নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়; যাদের মাতৃভাষা প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রধান ভাষা বাংলা। তবে অনেক জাতিগত বাঙালিই আসামের বহু পুরোনো বাসিন্দা ও তারা ভারতীয় নাগরিক। এমনকি ১৯৪৭ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সময় বাংলাদেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই তাদের শিকড় আসামে রয়ে গেছে।

২০১৯ সালে ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আইন চালু করা প্রথম রাজ্য আসাম। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়া রাজ্যে চালু করার পর প্রায় ২০ লাখ মানুষ নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েন, যাদের অনেকেই মুসলমান।

বাংলাদেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির ঘনিষ্ঠ মিত্র স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর গত এক বছরে আসামে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছন, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর আদিবাসী জনগণ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে বসবাস করছেন।

সূত্র: এএফপি।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ