বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করতে সরকারের ২৯ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিলে মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করতে সরকারের ২৯ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সরকার আপাতত পুরো টাকা মওকুফ করতে না পারলেও কোনো গ্রাহক নিজের খরচে মিটার কিনে নিলে তাকে আর কোনো মাসিক ভাড়া দিতে হবে না।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
অনিন্দ ইসলাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতা বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ। সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারের সুস্পষ্ট স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বস্ত করে বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান, তখন সরকারের পুরো দল একযোগে বলছে, উই হ্যাভ এ প্ল্যান।
সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সপ্তাহ থেকেই কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ না দিয়েই সেখান থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটে বন্ধ থাকা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট চলতি সপ্তাহেই চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, সমুদ্র ও ভূভাগে অনুসন্ধান জোরদার করতে গত মে মাসে শুরু হওয়া অফশোর বিডিং রাউন্ডের পাশাপাশি ১০৬টি কূপ খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টির কাজ সরাসরি মাঠপর্যায়ে চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রির সুবিধা চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের জ্বালানি খাত সম্পূর্ণরূপে সংকটমুক্ত হবে।












