spot_img

অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের বহুল বিতর্কিত নির্বাচন

একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের বহুল বিতর্কিত ১২তম সাধারণ নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় দেশটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল ৫টায়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ফেডারেল ও প্রাদেশিক পর্যায়ের ৮৫৫টি আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে ৯০ হাজার ৬৭৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন। তন্মধ্যে ফেডারেল আইন সভার ২৬৬ আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ হাজার ১২১জন ও প্রাদেশিক আইন সভার ৫৮৯টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৬৯৫ জন। নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ১২ কোটি ৮৫ লক্ষের কিছু বেশি। ফেডারেল ও প্রাদেশিক আইনসভার জন্য সবুজ ও সাদা রঙের ২ ধরণের ব্যালট নির্ধারণ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাকিস্তান স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসতে শুরু করবে। চূড়ান্ত ফলাফল পেতে শুক্রবার রাত ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, লাহোর, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি সহ বিভিন্ন শহরের অধিকাংশ ভোটার একতরফা নির্বাচনের অভিযোগে পুরোপুরি ভাবে এবারের নির্বাচন বর্জন করেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে কোনো লোকজনের উপস্থিতি ছিলো না। এমনকি পোলিং এজেন্টদেরও দেখা মিলেনি কেন্দ্রগুলোতে।

এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, তীব্র শীত ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি। তবে পোলিং এজেন্টদের অনুপস্থিতির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

কথিত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও রয়েছে তুমুল বিতর্ক। কেননা সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্বেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, এতে তাদের কোনো হাত নেই। স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয় যে, নিরাপত্তার প্রয়োজনে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি ইরান ও আফগান সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনী মোতায়েন সহ বিভিন্ন ধরণের আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হলেও দেশটির বহু কেন্দ্রে গোলাগুলি, গ্রেনেড হামলা ও ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অসংখ্য ব্যক্তি আহত হওয়ার পাশাপাশি ২শিশু সহ মোট ৯জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এসব ছাড়াও নির্বাচনটি বিতর্কিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, বিশাল গণসমর্থনের অধিকারী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের উপর অনাচার। দুর্নীতির অভিযোগে দলটির প্রধান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাদণ্ড ও নির্বাচনে প্রার্থীতার উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি চিরচেনা দলীয় প্রতীকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে পিটিআইকেও কোনঠাসা করে রাখা হয়।

৪০ শতাংশ নিরক্ষর জনগণের দেশে চিরচেনা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা জানান, তাদের প্রার্থীরা কোনো আসনেই যেনো জয় না পায় তা নিশ্চিত করতে সবধরণের অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে দেশটির সরকার ও প্রশাসন। মিথ্যা অভিযোগে প্রার্থীদের জেলে পাঠানোর, কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে না দেয়ার এবং পলাতক থাকতে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয় দলটির পক্ষ থেকে।

দলপ্রধান ইমরান খানের মুক্তি ঠেকাতে গত সপ্তাহে ৫ দিনের ব্যবধানে ৩টি পৃথক পৃথক মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ শুনানো হয়। তার আইনজীবী জানান, বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনো ১৭০টি অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র: জিও নিউজ, আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ